ছবিটি প্রতীকী

ইভ টিজিং এর শাস্তি

বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ইভ টিজিং বা নারীদের উত্ত্যক্ত করা নতুন কোনো বিষয় নয়। উত্ত্যক্তের শিকার হয়ে বিভিন্ন সময়ে বহু কিশোরী বা নারী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। কিন্তু এখনো বন্ধ হয়নি আইন অনুযায়ী বড় ধরনের এই অপরাধ।

ইভ টিজিং কী ?

আইন অনুযায়ী, ইভ টিজিংয়ের সংজ্ঞা বেশ বিস্তৃত। কোনো নারী বা কিশোরীকে তার স্বাভাবিক চলাফেরা বা কাজকর্ম করা অবস্থায় অশালীন মন্তব্য করা, ভয় দেখানো, তার নাম ধরে ডাকা ও চিৎকার করা, বিকৃত নামে ডাকা, কোনো কিছু ছুঁড়ে দেওয়া, ব্যক্তিত্বে লাগে এমন মন্তব্য করা, ধিক্কার দেওয়া, তার যোগ্যতা নিয়ে টিটকারী করা, তাকে নিয়ে অহেতুক হাসাহাসি করা, রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে ধাক্কা দেওয়া, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করা, ইঙ্গিতপূর্ণ ইশারা দেওয়া, সিগারেটের ধোঁয়া গায়ে ছাড়া, উদ্দেশ্যমূলকভাবে পিছু নেওয়া, উদ্দেশ্যমূলকভাবে গান, ছড়া বা কবিতা আবৃত্তি করা, চিঠি লেখা, পথরোধ করে দাঁড়ানো, প্রেমে সাড়া না দিলে হুমকি প্রদানের মতো বিষয়গুলো ইভ টিজিংয়ের মধ্যে পড়ে। ইলেকট্রনিক মিডিয়ার এই যুগে মুঠোফোন ও ই-মেইলের মাধ্যমেও ইভ টিজিং হয়ে থাকে।

শাস্তি  কী?

আইন অনুযায়ী ইভ টিজিং করলে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে।  ইভ টিজিংয়ের ধরন ও মাত্রা অনুযায়ী শাস্তির ভিন্নতাও রয়েছে।

  •  দণ্ডবিধি অনুযায়ী, অশালীনতার উদ্দেশ্যে কোনো মন্তব্য, অঙ্গভঙ্গি বা কোনো কাজ করলে এক বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে।
  •  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ নম্বর ধারা অনুযায়ী, অবৈধভাবে যৌনাঙ্গ বা অন্য কোনো অঙ্গ স্পর্শ করলে এবং শ্লীলতাহানি করা হলে দায়ী ব্যক্তি অনধিক ১০ বছর (কিন্তু অন্যূন তিন বছর) সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং অতিরিক্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।
  •  ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী, এই অপরাধে অনধিক এক বছর অথবা অনধিক দুই হাজার টাকা অথবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে।
  •   মোবাইল কোর্ট আইন অনুযায়ী, ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী হাকিমের সামনে সংঘটিত বা উদঘাটিত হয়ে থাকলে তৎক্ষণাৎ অপরাধ আমলে নিয়ে শাস্তি দেওয়া যাবে। তবে দুই বছরের বেশি কারাদণ্ড এই আইনের অধীন আরোপ করা যাবে না। এই আইনে বলা হয়েছে, আইন প্রয়োগের সঙ্গে সামাজিক মূল্যবোধ ও  পারিবারিক শিক্ষাদান অপরাধ হ্রাসে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে।

ইভ টিজিংয়ের শিকার হলে করণীয়

কেউ ইভ টিজিংয়ের শিকার হলে তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। একমাত্র ভ্রাম্যমাণ আদালতেই ইভ টিজিংয়ের তাৎক্ষণিকভাবে বিচার করা হয়ে থাকে।

লেখক : শুভ্র সিনহা রায়, আইনজীবী , বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।

 

 

এনটিভি অবলম্বনে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar