করোনা চিকিৎসায় প্রস্তুত নয় সব হাসপাতাল

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস নিয়ে বাংলাদেশেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে এই ভাইরাসে দেশে ৫৪ জন আক্রান্ত ও ছয়জনের মৃত্যু ঘটেছে। এ প্রেক্ষাপটে সরকার আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের নমুনা পরীক্ষার পরিধিও বাড়ানো হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্তাব্যক্তিরা সেবার পরিধি বাড়ানোর বিষয়টি বারবার বলে আসছেন। সে অনুযায়ী রাজধানীসহ সারাদেশে বেশকিছু হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীদের সেবার জন্য প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহে রাজধানী ও এর আশপাশের ১২টি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল করোনা আক্রান্ত রোগী চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত করার সিদ্ধান্ত নেয় স্বাস্থ্য বিভাগ। এর মধ্যে সাতটি সরকারি এবং পাঁচটি বেসরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। তবে বেসরকারি হাসপাতালগুলো মোটামুটি প্রস্তুত হলেও সরকারি সবগুলো এখনও প্রস্তুত নয়।

করোনা চিকিৎসার জন্য নির্বাচিত সরকারি হাসপাতালগুলো হলো- বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল. কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতাল, মহানগর জেনারেল হাসপাতাল এবং মিরপুর লালকুঠি মাতৃ ও শিশু হাসপাতাল। এর মধ্যে কুয়েত-মৈত্রী হাসপাতাল ছাড়া আর কোনোটিই চিকিৎসার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ১৫০ কিডনি রোগী প্রতিদিন ডায়ালাইসিস করান। এসব রোগীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হওয়ায় ওই হাসপাতালটিও পুরোপুরি করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতাল, রেল মন্ত্রণালয়ের প্রতিষ্ঠান রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতাল, মিরপুরের লালকুঠি মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য হাসপাতাল চিকিৎসার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল প্রস্তুত হলেও সেখানে রোগী যাচ্ছেন না।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রিজেন্টের উত্তরা ও মিরপুর শাখা, যাত্রাবাড়ী সাজিদা ফাউন্ডেশন, ইউনাইটেড হাসপাতালের মুন্সীগঞ্জ শাখা এবং আকিজ গ্রুপের হাসপাতাল প্রস্তুত হলেও সেখানে পূর্ণাঙ্গ সেবা মিলবে না। কারণ পরীক্ষার জন্য এসব হাসপাতালের কয়েকটিতে কোনো ব্যবস্থা নেই। আক্রান্ত রোগীকে রেফার করা হলে এসব হাসপাতাল চিকিৎসা দিতে পারবে বলে জানিয়েছে সংশ্নিষ্টরা।

শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল :স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঘোষণার পর রাজধানীর মহাখালীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালটিও এখন পর্যন্ত প্রস্তুত হয়নি। হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা সংযোজনের কাজ চলছে কয়েকদিন ধরে। এটি শেষ হতে আরও কয়েকদিন লাগবে বলে জানিয়েছেন সংশ্নিষ্টরা। আড়াইশ’ শয্যার এই হাসপাতাল করোনা রোগীদের জন্য প্রস্তুত করতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। ছয় ফুট দূরত্ব রেখে শয্যাগুলো প্রস্তুতের কাজ চলছে। অতিরিক্ত চিকিৎসক ও নার্সও পদায়ন করা হয়েছে। তবে এই হাসপাতালে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই।
হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফারুক আহমেদ সমকালকে জানান, ২৫০ শয্যার এই বিশেষায়িত হাসপাতাল করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত করতে গিয়ে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। কারণ ছয় ফুট দূরত্ব রেখে প্রত্যেকটি শয্যা স্থাপন করা হচ্ছে। এতে এই হাসপাতালে সর্বোচ্চ ৬০টি শয্যা রাখা যাবে। আট শয্যার আইসিইউ এবং সমসংখ্যক হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট (এইচডিইউ) প্রস্তুত করার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন। এটি শেষ হতে হয়তো আরও কিছুটা সময় লাগবে। এসব প্রক্রিয়া শেষ হলেই এটি রোগীর চিকিৎসার উপযোগী হবে বলে জানান তিনি।

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল : সর্বশেষ কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালকে করোনা আক্রান্ত রোগীদের সেবার জন্য প্রস্তুত করার নির্দেশ দেয় স্বাস্থ্য বিভাগ। সে অনুযায়ী হাসপাতালের অন্যান্য রোগীকে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। কিন্তু এই হাসপাতালে দেড়শ’ রোগীর নিয়মিত কিডনি ডায়ালাইসিস করা হয়। করোনা আক্রান্ত রোগীর সেবার জন্য এই হাসপাতালকে পুরোপুরি তৈরি করা হলে ওই কিডনি রোগীরা ঝুঁকিতে পড়বেন। ইতোমধ্যে এই হাসপাতালে চারজন করোনা আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত শনাক্ত হওয়ার পর অন্য দুই রোগীকে কুয়েত-মৈত্রী হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিল আহমেদ বলেন, কিডনি রোগে আক্রান্ত ডায়ালাইসিস নেওয়া রোগীদের বিষয়টি তিনি মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে জানিয়েছেন। তবে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কিডনি রোগীদের নিয়মিত ডায়ালাইসিস করা না হলে তারা মৃত্যুবরণ করবেন। আবার করোনা আক্রান্ত রোগীদের সংস্পর্শে গেলে তারা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবেন। সেক্ষেত্রে করোনা আক্রান্ত কোনো রোগী ভর্তি হলে এবং সেই রোগীর সংস্পর্শে কোনো কিডনি রোগী কিংবা তার সঙ্গে থাকা স্বজনরা গেলে ঝুঁকি আরও বাড়বে। রোগটি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। সুতরাং এখন এসব বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতাল: রাজধানীর পুরান ঢাকার নয়াবাজার এলাকায় অবস্থিত ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতাল দেড়শ’ শয্যার। তবে এই হাসপাতালে এখন একশ’ শয্যা চালু আছে। এই হাসপাতালে নেই কোনো আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর। করোনা চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতাল প্রস্তুত করার ঘোষণা দেওয়ার পর অন্য রোগীদের মিটফোর্ড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। গতকাল বুধবার পর্যন্ত ১৪ মেডিকেল অফিসার ও ২২ নার্সকে পদায়ন করা হয়েছে। ২৫টি ব্যক্তিগত সুরক্ষা উপকরণ (পিপিই) হাসপাতালে পাঠানো হয়। এই হাসপাতালে করোনা চিকিৎসার অগ্রগতি এ পর্যন্তই। এখনও কোনো পরীক্ষা কিট দেওয়া হয়নি। গতকাল বিকেল ৫টা পর্যন্ত জ্বর-সর্দি-কাশি নিয়ে আট রোগী এই হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে তারা কেউই করোনা আক্রান্ত নন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা।

কয়েকজন চিকিৎসক জানান, হাসপাতালটিতে করোনা আক্রান্ত রোগীর সেবা দেওয়ার জন্য কোনো উপকরণই নেই। করোনা আক্রান্ত রোগীর সেবা দিতে হলে আইসিইউ ও পর্যাপ্ত ভেন্টিলেটর মেশিন থাকা প্রয়োজন। সেগুলোর কিছুই নেই। আবার এসব সামগ্রী এই হাসপাতালে যে দেওয়া হবে সে ধরনের কোনো সিদ্ধান্তও হয়নি। নামেমাত্র সেবা চালু করে কোনো লাভ হবে না। এতে মানুষের ভোগান্তি বাড়বে।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রকাশ চন্দ্র রায় বলেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও সরঞ্জাম আসার ওপর মূলত চিকিৎসা নির্ভর করবে। বর্তমানে সীমিত পরিসরে বহির্বিভাগ চালু রাখা হয়েছে। যে পরিমাণ জনবল ও সরঞ্জাম দেওয়া হয়েছে, সেগুলো দিয়ে আন্তঃবিভাগ চালু করা সম্ভব হবে না। কারণ আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর সুবিধা নেই। একই সঙ্গে কনসালট্যান্টও পদায়ন করা হয়নি। হাসপাতালে ল্যাব রয়েছে। টেকনিশিয়ান ও কিট এলে এই ল্যাবেই রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব হবে। তবে সেগুলোও তো দেওয়া হয়নি।

রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতাল: রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের উল্টো দিকে রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতাল করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য ঘোষণা করা হয়েছে। তবে পুরান ঢাকার মহানগর জেনারেল হাসপাতালের মতো এই হাসপাতালটিরও একই চিত্র। ১০০ শয্যার হাসপাতালটিকে এখনও প্রস্তুতির কাজ চলছে। এখনও বিভিন্ন কক্ষ মেরামতের কাজ চলছে। এটি কবে নাগাদ প্রস্তুত হবে তা জানে না কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালে আগে থেকে নয়জন চিকিৎসক ছিলেন। করোনা আক্রান্ত রোগীদের সেবার কথা ঘোষণার পর নতুন করে আরও ছয়জন চিকিৎসক পদায়ন করা হয়েছে।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. ফারুক আলমগীর বলেন, দীর্ঘদিনের একটি জরাজীর্ণ ভবনকে তারা প্রস্তুত করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু রাতারাতি তো সবকিছু করা সম্ভব নয়। তারা চেষ্টা করছেন। তবে করোনা আক্রান্ত কোনো রোগীর চিকিৎসার জন্য যেসব ব্যবস্থাপনা থাকা প্রয়োজন, সেগুলোর কিছুই নেই এই হাসপাতালে। আইসিইউ, ভেন্টিলেটর থেকে শুরু করে অন্যান্য প্রয়োজনীয় কোনো কিছুই নেই। সুতরাং এই অবস্থায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শুধু কোয়ারেন্টাইন করে রাখা যাবে। এই বাইরে আক্রান্ত কোনো রোগীর চিকিৎসা দেওয়া যাবে না।

লালকুঠি মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য হাসপাতাল: রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বরের ২০০ শয্যাবিশিষ্ট লালকুঠি মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য হাসপাতালটিতে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া কথা বলা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে এই হাসপাতালে ১৫ জন মেডিকেল অফিসার, একজন মেডিসিনের কনসালট্যান্ট, দু’জন অ্যানেস্থেশিস্ট ও ২৭ জন নার্স পদায়ন করা হয়েছে। পিপিই দেওয়া হয়েছে সাড়ে তিনশ। হাসপাতালে নেই কোনো আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর। পরীক্ষা-নিরীক্ষার কোনো ব্যবস্থাও নেই। এসব সামগ্রী দেওয়ার বিষয়ে সরকারের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা সে সম্পর্কে অবগত নয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক চিকিৎসক জানান, ইনডোরে করোনা আক্রান্ত কোনো রোগীকে ভর্তি করে সেবা দেওয়ার জন্য এই হাসপাতালটি প্রস্তুত নয়।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. শামসুল করিম বলেন, সন্দেহভাজন করোনা রোগী অথবা কোয়ারেন্টাইন করে রাখতে তার হাসপাতাল প্রস্তুত আছে। কিন্তু আক্রান্ত রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য যেসব সামগ্রী প্রয়োজন, সেগুলো নেই। এ অবস্থায় এই হাসপাতালে শুধু কোয়ারেন্টাইন করে রাখা সম্ভব। আক্রান্ত কোনো রোগীকে সেবা দেওয়া সম্ভব নয়।

পরিচালক আরও বলেন, গত কয়েকদিনে জ্বর, সর্দি ও কাশি নিয়ে কয়েকজন রোগী তাদের হাসপাতালে এসেছেন। কিন্তু তাদের মধ্যে করোনার কোনো লক্ষণ-উপসর্গ ছিল না। এজন্য বহির্বিভাগ থেকে চিকিৎসা দিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

সাজেদা ফাউন্ডেশন হাসপাতাল : রাজধানীর কাঁচপুরের ৫০ শয্যাবিশিষ্ট বেসরকারি সাজেদা ফাউন্ডেশন হাসপাতালটিও করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এই হাসপাতালে পাঁচ শয্যাবিশিষ্ট আইসিইউ রয়েছে। হাসপাতালটির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ছয়জন মেডিকেল অফিসার ও ১২ জনের মতো নার্স রয়েছে। সরকারিভাবে আরও চারজন চিকিৎসক ও ১০ জনের মতো নার্স পদায়ন করার কথা ছিল। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত তাদের পদায়ন করা হয়নি।

হাসপাতালটির জ্যেষ্ঠ পরিচালক ডা. ফজলুল হক জানান, করোনা আক্রান্ত রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য তাদের প্রস্তুতি রয়েছে। করোনা পজিটিভ রোগীদের এখানে রেফার করা হলে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। তবে গতকাল পর্যন্ত এই হাসপাতালে একজন রোগীও পাঠানো হয়নি।

রিজেন্ট হাসপাতাল : রিজেন্ট গ্রুপের রাজধানীর উত্তরা ও মিরপুরের দুটি হাসপাতাল করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য দেওয়া হয়েছে। ৫০ শয্যা করে এই দুটি হাসপাতালে ১০০ শয্যা রয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি আইসিইউ মেশিন ভেন্টিলেটরসহ প্রস্তুত আছে। এই হাসপাতাল দুটিতে সর্দি, কাশি ও জ্বর নিয়ে বেশকিছু রোগী গত কয়েকদিনে সেবা নিতে গেছেন। তাদের মধ্যে তিনজনের শরীরে করোনার সংক্রমণ থাকতে পারে বলে চিকিৎসকরা আশঙ্কা করেছিলেন। কিন্তু পরীক্ষার পর জানা যায়, তারা করোনা সংক্রমিত নন। এরপর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহেদ বলেন, দেশে করোনা সংক্রমণের পর পরই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম হাসপাতাল দুটি আক্রান্ত রোগীদের সেবার জন্য ছেড়ে দেব। এরপর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রস্তাব পাঠানোর পর তারা রাজি হয়। এরপর থেকে এখানে চিকিৎসা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত কোনো রোগী এখানে আসেনি।

ভরসার জায়গা বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল : দেশের করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় একমাত্র ভরসার জায়গা বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালটি। এখন পর্যন্ত আক্রান্ত প্রায় সব রোগীই এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে ৩৫ জন ভর্তি আছেন। ২০০ শয্যার এই হাসপাতালে ২৬ শয্যাবিশিষ্ট আইসিইউ এবং পাঁচ শয্যার ডায়ালাইসিস ইউনিট রয়েছে।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. শিহাব উদ্দিন জানান, করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য অতিরিক্ত চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যান্য চিকিৎসাকর্মী পদায়ন করা হয়েছে। তাদের কোনো ঘাটতি নেই। চিকিৎসক, নার্সসহ অন্য কর্মীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে এই দুর্যোগের সময় রোগীদের পাশে থেকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি এই সংকট মোকাবিলায় সবার সহায়তা ও দোয়া প্রার্থনা করেন।

সার্বিক বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল শাখা) ডা. আমিনুল হাসান বলেন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস করা রোগীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাদের অন্যত্র শিফট করা হবে। শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালের বহির্বিভাগ দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালু হবে। মহানগর জেনারেল হাসপাতালের বহির্বিভাগ চালু হয়েছে। মিরপুরের মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু সামগ্রী পৌঁছানো হয়েছে। বাকিগুলো দ্রুত সময়ে পৌঁছানোর কাজ চলছে। ওই হাসপাতালের বহির্বিভাগ চালু হয়েছে। তবে রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতাল চালু হতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। কারণ পুরোনো ভবন মেরামত করে রোগী ভর্তির জন্য উপযোগী করে তোলা হচ্ছে।

সূত্র-সমকাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar