ক্যাব ভারতীয় বিচার বিভাগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ

ফেসবুক মতামত: বিচারাঙ্গন ভিন্ন স্থান-এটি পার্লামেন্ট, নির্বাহী বিভাগ, সামরিক বাহিনী বা অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে পৃথক। এই কারণে অন্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় সুযোগ সুবিধাগত অনেক বিষয়ে বিচারবিভাগ পেছনে থাকলেও এটি ভিন্ন-এর মর্যাদা আলাদা; বলা যায় এই স্বাতন্ত্র বৈশিষ্ঠ্য-ই বিচার বিভাগের সৌন্দর্য্য।

বিচারপতি জ্যাকসন তার এক লেখায় বলেন, ‘[A] military commander may oversteps the bounds of constitutionality, and it is an incidence. But if we [court] review and approve, that passing incident becomes the doctrine of the constitution. There it has a generative power of its own, and all that it creates will be in its own image.’

মৌলভী তমিজুদ্দিন-এর মামলায় ১৯৫৪/৫৫ সালের দিকে এবং তার পরপর-ই স্টেট বনাম ডসো মামলায় পাকিস্তানের বিচারবিভাগ যে ভুল করেছিলো পাকিস্তান আজো তার খেসারত দিচ্ছে; শুধু পাকিস্তান সৃষ্টির প্রারম্ভে ঐ দুটি রায় পাকিস্তানের রাজনীতি এবং গণতন্ত্রের দিক পরিবর্তন করে দিয়েছে। অন্যদিকে, ভারতে বলা যায় বিচার বিভাগের জন্য-ই তাদের অনেক প্রতিষ্ঠান এবং গণতন্ত্র বেশ শক্ত এবং পোক্ত। এ,ডি,এম জাবালপুর মামলায় নির্বাহী বিভাগের দেহরক্ষী হয়ে বিচার বিভাগ জনগণের সাংবিধানিক অধিকার হরণের যে চেষ্টা করেছিলো বিচারপতি খান্নার মত বিচারকদের প্রচেষ্ঠায় তা সফল হতে পারে নি বরং এ,কে গোপলান ও মানেকা গান্ধীর মামলা থেকে শুরু করে সর্বশেষ আধার কার্ড মামলা এবং সাবরিমালা মন্দির সংক্রান্ত মামলায় ভারতের বিচার বিভাগ জনগনের হয়ে তাদের অধিকার সমুন্নত রাখার জন্য লড়ে গেছে। বলা যায়, আমাদের এই উপমহাদেশে ভারতের গণতন্ত্র এবং বিচারবিভাগের ভুমিকার কাছে অন্য কোন দেশ ধারে পাশে নেই।

সম্প্রতি ভারতের গণতন্ত্রের আকাশে কালো মেঘ জমেছে এবং বিচার বিভাগের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। ইতোমধ্যে NRC এবং CAB আইন নিয়ে ভারত সরকার তার দেশের দীর্ঘ ঐতিহ্য এবং তিল তিল করে গড়ে ওঠা গণতন্ত্রকে হুমকির মধ্যে ফেলেছে। অন্যদিকে, ভারতের বিচারবিভাগ কাশ্মীরি বন্দী সংক্রান্ত কিছু বিষয়, ল’ইয়ারদের দ্বারা সাম্প্রতিক পুলিশের সাথে ঘটে যাওয়া বিরোধ এবং সর্বশেষ আজ দেখলাম সাবরিমালা মন্দিরে নারী পুজারীদের পুজা প্রার্থনায় নিরাপত্তার আদেশ প্রদান না করে (PASSING NO ORDER) বিচার বিভাগ বর্তমান পরিস্থিতিতে তার নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

ভারতের নাগরিকদের কাছে এখনো তাদের সুপ্রীম কোর্ট শেষ ভরসাস্থল। বিতর্কিত CAB আইনের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে তার লিগ্যলিটি চ্যালেঞ্জের জন্য নাগরিকদের একটি অংশ সুপ্রীম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে একটি ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় পুলিশ কর্তৃক ক্রসফায়ারের প্রেক্ষিতে সেদেশের অনেক লোক পুলিশকে সমর্থন দিলেও আইনমাফিক বিচার বিভাগ সেখানে এই বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডকে জুডিসিয়াল নোটিশে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়ে এই Extra-Judicil Killing এর কালচার বন্ধ করতে চাইছে-যা শুভ লক্ষণ।

ভারতীয় বিচার বিভাগ কি বিদ্যমান পরিস্থিতিতে CAB বিষয়ে তাদের পূর্বের ধারাবাহিকতা রাখতে পারবে? — একটা বড় চ্যালেঞ্জ– বিচার বিভাগ হেরে গেলে ভারতীয় গনতন্ত্রও নিঃসন্দেহে হেরে যাবে! আর প্রতিবেশি দেশ হিসাবে আমাদের উপর তার প্রভাব তো পড়বেই।

(সিনিয়র সহকারী জজ মোঃ আল-ইমরান খানের ফেসবুক পোস্ট অবলম্বনে)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar