চট্টগ্রামে ভিখারীর অর্থও লুটে খেল ওসেপ

চট্টগ্রামভিত্তিক অর্গানাইজেশন অব সোস্যাল সার্ভিস অ্যান্ড এলিমিনেশন অব পোভার্টি (ওসেপ) নামক একটি সংস্থা কর্তৃক অর্থ লোপাটের প্রতিবাদে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ করেছে শত শত ভিক্ষুক।

রোববার দুপুরে নগরীর প্রেসক্লাবের সামনে জমায়েত হয়ে ভিক্ষুকরা টাকা উদ্ধারের দাবি জানায়।

জানা যায়, ওসেপ নামের সংস্থাটি চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন স্থানে অফিস, শাখা অফিসের মাধ্যমে হতদরিদ্র লোকদেরকে দ্বিগুণ, তিনগুণ লাভের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০ হাজার গ্রাহকের নিকট থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এই সব গ্রাহকদের টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে প্রায় তিন বছর। গ্রাহকরা এখনো ওসেপ অফিসসহ নগরীর প্রত্যান্ত এলাকায় ওসেপ কর্মকর্তাদের খুঁজছে।

ভিক্ষা করে মেয়ের বিয়ের জন্য জমানো টাকাও রেখেছে অনেক ভিখারী। দিনমজুর, শ্রমিক, গৃহকর্মী, গার্মেন্টস কর্মী, সিএনজি চালকসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ থেকে ১০ হাজার থেকে শুরু করে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত সংগ্রহ করেছে তারা।

চট্টগ্রাম শহরের এনায়েত বাজারের বাটালি রোডে চারতলা ভবনে ওসেপের প্রধান কার্যালয় অবস্থিত। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ডা. জসিম উদ্দিন। অল্প সময়ে বেশি লাভের লোভ দেখিয়ে রাতারাতি বিশাল অঙ্কের আমানত সংগ্রহ করেন তিনি।

২০১৫ সালে জসিম উদ্দিন মারা যাওয়ার পর এই প্রতিষ্ঠানের হাল ধরেন তার স্ত্রী। তবে তার মৃত্যুর পর থেকে কোনো গ্রাহক টাকা পায়নি বলে অভিযোগ করেন বিক্ষোভকারীরা।

ওসেপের আমানতকারী আমেনা খাতুন জানান, ভিক্ষা করে কোনো রকমে দিন যাপন করতেন তিনি। মেয়েকে বিয়ে দিতে হবে এবং ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ভিক্ষা টাকা থেকে না খেয়ে, না পড়ে প্রতিদিন টাকা জমা দিতেন ওসেপে। তার ২ লাখ টাকা সেখানে জমা হলেও তিনি কোনো টাকা ফেরত পাননি।

জানা গেছে, ওসেপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান তার গ্রামের বাড়ি নরসিংদীতে এই টাকা নিয়ে দুটি ইটভাটা স্থাপন করেন আর নগরীর বাটালী রোডে নিজস্ব জায়গা নিয়ে চারতলা বিশিষ্ট এক ভবন নির্মাণ করেন।

এদিকে পালিয়ে থাকা ওসেপের ফিল্ড অফিসার জাহানারা বেগম লাকীকে গত ৪ নভেম্বর খুশলী এলাকা থেকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে গ্রাহকরা। পরে গ্রাহকরা থানার সামনে বিক্ষোভ করে এবং প্রতারক জাহানারার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।

খুলশী থানার ওসি শেখ মো. নাসির উদ্দিন বলেন,‘ অর্থ আত্মসাতে অভিযুক্ত জাহানারা লাকীসহ নয়জনকে আসামি করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar