ঢাকা কারা হাসাপাতালের অধিকাংশ সিটে সুস্থ কয়েদিরা!

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে হাসপাতালের ১৭০ সিটের দুই-তৃতীয়াংশ সিটে নিয়মিত আরাম আয়াশে থাকছেন সুস্থ কয়েদিরা। হাসপাতালে সিটের সঙ্গে রয়েছে টেলিভিশন, রেফ্রিজারেটর, ওভেন ইত্যাদি বিলাসী সামগ্রীর সুবিধা।

কারাগারের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে মাসের পর মাস হাসপাতালে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন কয়েদিরা। মঙ্গলবার কারাগারে দুদকের অ্যানফোর্সমেন্ট টিমের অভিযানে মিলেছে এমন ঘটনার সত্যতা।

দুদক হটলাইনে (১০৬) ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে দুর্নীতির মাধ্যমে কয়েদিদের হাসপাতালে ভর্তি করার এক ভয়ানক অনিয়মের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংস্থাটির মেডিক্যাল অফিসার ডা. অনুপ কুমার বিশ্বাস, সহকারী পরিচালক মো. রাউফুল ইসলাম এবং উপ-সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদের সমন্বয়ে গড়া একটি টিম এ অভিযানে অংশ নেয়।

দুদক জানায়, অভিযানকালে দুদক টিম ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কয়েদিদের জন্য হাসপাতাল পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পায়। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, ১৭০ শয্যাবিশিষ্ট উক্ত হাসপাতালে দুই-তৃতীয়াংশ সিটই সুস্থ কয়েদিদের দখলে। হাসপাতালের সিটে আয়েশী ভঙ্গিতে বসে থাকতে দেখা যায় তাদের। পরিদর্শনকালে কিছু কক্ষে টেলিভিশন, রেফ্রিজারেটর, ওভেন ইত্যাদিও ব্যবহার করতে দেখা গেছে। এমনকি কারাগারে অবস্থানের পর থেকেই অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে মাসের পর মাস হাসপাতালে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন কয়েদিরা।

কারা হাসপাতালে অবিলম্বে এসব অনিয়ম, দুর্নীতি বন্ধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছে দুদকের অ্যানফোর্সমেন্ট টিম। অভিযানের পরপরই ১২ জন সুস্থ কয়েদিকে হাসপাতাল থেকে সরিয়ে ফেলা হয়।

অভিযান পরিচালনা প্রসঙ্গে অ্যানফোর্সমেন্ট টিমের সমন্বয়কারী দুদকের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী বলেন, ‘কারাগারে দুর্নীতির ঘটনা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে জানিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। দুর্নীতিতে জড়িতদের চিহ্নিত করে দুদক অনুসন্ধান শুরু করবে। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কারা প্রশাসনের দুর্নীতি বন্ধে দুদক আরো কঠোর অভিযান চালাবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar