‘তার প্রতিটি আলিঙ্গন-চুম্বনের মূল্য লাখ টাকার উপরে’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জামালপুরের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ কবীরকে ওএসডির পর চলমান রয়েছে তদন্ত কাজ। কিন্তু থেমে নেই ফেসবুকে আলোচনা সমালোচনা। ক্রাইম ফোকাসের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্ট্যাটাস-

১. খোঁজ নিয়ে দেখেন ঐ হিজাবী শুধু দেহ ও মনের ক্ষুধায় উক্ত কর্মে শরীক হননি! তার প্রতিটি আলিঙ্গন আর চুম্বন শক্তির আর্থিক মূল্য ছিল লাখ টাকার উপরে… বাহাদুর ডিসির (রাজার) পদ, পদবী ও ক্ষমতা ব্যবহার/অপব্যবহার করে নিশ্চয়ই মহা মানবী অনেক সুবিধা আদায় করেছেন! বেচারা রাজা শুধু কামের লোভে আজ রাজ্য হারা!! নিন্দিত নিজ পরিবারে! ঘৃণিত আম জনতার কাছে!! লজ্জিত পুরো সার্ভিস!!! নিশ্চয়ই কোন প্রমীলা বস উক্ত আকারে কর্মটি সাধন করতেন না! পুরুয আসলেই নির্লজ্জ নিম্ন রুচির!!! জাত পাত শ্রেণী মানে না…. অথচ, হিজাবী প্রেমিকা রাঘব বোয়াল চিনে…. একেবারে রাজার সাথে প্রেম!!! (নূরে আলম ভূইয়া নামীয় ফেসবুক আইডি হতে)

জামালপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ কবীর ও সাধনা

২. সে ছিল বিধবা।পালক বাবা মা’র কাছে লালিত।উদ্বাস্তু অসহায় অভাবী। স্কুল পড়ুয়া এক শিশু সন্তানের মা।সোজা কথায় সে ছিল সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়াদের একজন। কাজেই এটা অনুমেয় যে ডিসির প্রলোভন ও পশ্রয়সুলভ আচরণ না থাকলে বিষয়টি এতদূর গড়াতো না।বড় বড় কিছু উদাহরণ দেই।একজন বিখ্যাত নায়ক কিংবা জনপ্রিয় খেলোয়াড়দের পিছনে অনেক মেয়ে ফ্যান ঘুরঘুর করে।তাই সেসব সেলিব্রিটি কি ভক্তদের দুর্বলতার সুযোগে নিয়ে তাঁদের বিছানায় নিয়ে যাবেন??!! আইনে উত্তমর্ণ ও অধমর্ণ দুটি কনসেপ্ট আছে। ডিসি এখানে উত্তমর্ণ অবস্থানে।ঐ জেলার প্রত্যেক মানুষের সাথে তিনি fiduciary সম্পর্কে আবদ্ধ। এমনকি যে কোন বিপথগামী মেয়ের বেলাতেও। উনি জেলায় যে কাউকে একটা সুবিধা দেয়ার অবস্থানে থাকেন। আবার সবাইকে সুরক্ষা দেয়ার দায়িত্বও তাঁর।তাই স্খলনের আহবানে সাড়া দেয়াটাই মারাত্মক অন্যায় ও অপরাধ হয়েছে তাঁর।
অনেক সমাজবিজ্ঞানী ও মনোবিজ্ঞানী হিটলারের প্রতি নরম মনোভাব দেখান।কারণ তাঁর শৈশব ছিল লাঞ্ছনা বঞ্চনায় ভরা।এখানেও মেয়েটির বিচার করতে হলে তার আর্থসামাজিক অবস্থা ও কষ্টকর অতীত বিবেচনায় নিতে হবে।
ক্লিনটন ও মণিকার ঘটনায় পুরুষকেই দায়ী করা হয়।কারণ তিনি ছিলেন উত্তমর্ণ। ক্লিনটন পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।অত্যন্ত সুদর্শন সুপুরুষ তিনি।তাঁর প্রতি মণিকার মত সাধারণ একটা মেয়ে আকৃষ্ট হবেন।এটাই স্বাভাবিক। তাই বলে প্রেসিডেন্ট হয়ে হোয়াইট হাউসের একজন শিক্ষানবিশের সাথে খারাপভাবে জড়িয়ে পড়া ঠিক হয়নি।এই বিষয়টির কারণেই সেই সময় মণিকা গোটা পৃথিবীর সাধারণ মানুষের সহানুভূতি পেয়েছিল।
কাজেই আমি মনে করি – সাধনা মেয়েটি নিন্দার সাথে সাথে কিছু সহানুভূতিরও হকদার। কাজেই সংগত কারণে ডিসি এবং তাঁর অধীনস্হ কর্মচারীকে এক পাল্লায় রেখে মাপার সুযোগ নেই। (মোহাম্মদ মাহাবুবুর রহমান নামীয় ফেসবুক আইডি হতে)

হস্তশিল্প মেলায় জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ কবীরের পাশেই সাধনা

৩. প্রত্যেক মানুষের অন্তরতম কথা কেবল অন্তর্যামীরই গোচর। প্রাত্যহিক জীবনে আমার আপনার এবং সকলেরই এমন অনেক অনৈতিক কর্ম আছে যা কেবল স্রষ্টা ছাড়া আর কেউ জানেন না। আফসোস লাগে আমার কেবল জামালপুরের অভাগা ডিসি’র জন্য! বেচারা! করেন তো অনেকেই, ধরা পড়েছেন কেবল তিনি-ই! ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরাযোগে যদি এমন করে সর্বত্র ফাঁদ পাতা হয় তাহলে কতশত রাঘববোয়াল যে প্রতিদিন একের পর এক এমন অনৈতিক মায়াজালে ধরা পড়বেন তার কোনো ইয়ত্তা নেই। এই জীবনে আমরা অধিকাংশই কোনো না কোনো অনৈতিক কর্ম করেও শাস্তি না পেয়ে ক্ষমা পেয়েছি অথচ কখনও কারো কাছে তিলমাত্রও কবুল করিনি। আমাদের মধ্যে কেউ কি আছেন এই শ্রেণির বহির্ভূত? নিঃসন্দেহে নেই! কিন্তু দিনশেষে চূড়ান্ত কথা এই যে- ধরা পড়লে রক্ষা নাই! অতএব সাধু (!) সাবধান! করে যান সবকিছু অতি সংগোপনে; সন্দিগ্ধ দৃষ্টি রাখবেন কেবল এমন সর্বনাশা ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায়। তাহলেই বাস, আপনি খালাস! (কেশব রায় চৌধুরী নামীয় ফেসবুক আইডি হতে)


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar