ফেসবুক যেন এক ‘প্রতিবাদী পোস্টার’

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ‌্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন ফেসবুক ব‌্যবহারকারী বাংলাদেশিরা।

ফেসবুকে প্রতিবাদের ঝড় যেন থামছেই না। নেটিজেনরা আবরার হত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে একের পর এক পোস্ট দিচ্ছেন। প্রতিবাদী পোস্টে ছেঁয়ে গেছে ফেসবুক। পুরো ফেসবুক যেন প্রতিবাদী পোস্টারের রূপ নিয়েছে।

আবরারকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্কলাসটিকা স্কুলের কাউন্সিলর মরিয়ম হক মৌসুমী। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘জাতি হিসেবে আমরা এত নষ্ট কিভাবে হচ্ছি !

আচ্ছা, এই যে ছেলেটাকে যে নামধারী ছাত্রলীগের ছাত্ররা মেরে ফেললো তারা ও তো মনে হয় এই বুয়েটেরই ছাত্র, যদি আমি ভুল না করি! এই শিক্ষিত হয়ে কি শিখলো তারা! মানুষ হওয়া আর শিক্ষিত হবার মধ্যে আকাশ পাতাল তফাত আছে! শিক্ষিত হয়ে এমন পশু হবার চেয়ে ভালো আমি অশিক্ষিতই থেকে যাই!

একটা দেশের জন্য ছাত্র রাজনীতি অনেক বেশি প্রয়োজন তার সাক্ষী এদেশের ইতিহাসই দেয় কিন্তু এ নস্টামি আর রাজনীতি  এক জিনিস  নাহ!’

ফেসবুকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা লিখেছেন, ‘আবরার তোমার মৃত্যু আমাকে বার বার মনে করিয়ে দেয়, এইজন্যই কী ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল!’

‘খুনীর কোন দল নেই; খুনীরা সমাজের জন্জাল’ শিরোনামে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত জাহান স্বান্তনা লিখেছেন, ‘আমার খুব শখ আমার বড় ছেলে বুয়েটে পড়বে যদি ও নিজ থেকে অন্য কিছু পড়তে না চায়। ও যদি বুয়েটে চান্স পায় তাহলে নিশ্চয়ই আনন্দের বন্যা বয়ে যাবে। আমি আমার ছেলেকে জড়িয়ে ধরবো প্রগাঢ় আনন্দে– আমার চোখে থাকবে আনন্দের অশ্রধারা। নিশ্চয়ই আবরারের মা এভাবেই উদযাপন করেছিলেন যখন তার আদরের সন্তান আবরার বুয়েটে টিকেছিল। গর্বে আবরারের বাবার বুকটা ফুলে উঠেছিল। দেশের সবচেয়ে স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান এ মেধাবী ছেলের জয়যাত্রা সব বাবা মায়েরই কাম্য। কিন্তু এ কেমন পরিণতি!!!’

আবরারের বাবার অশ্রুসিক্ত ছবিসম্বলিত একটি প্রতিবাদী পোস্টার অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী শেয়ার করছেন। সেখানে লেখা আছে,

‘দুমড়ে মুচড়ে স্বপ্নের মালা,

আকাশ ছোঁয়ার সাধ

প্রিয় বাবা, তুমি প্রস্তুত করো

তোমার চওড়া কাঁধ

আগে চড়েছিল ছোট্ট আমিটা,

এবারে আমার লাশ।

মুখোশে মুখোশে

মানুষের সাথে

শুয়োরের বসবাস।

 

ফেসবুকে মাহমুদুল হাসান তানভীর লিখেছেন, ‘জানি আবরারকেও ভুলে যাবো। যেভাবে ভুলে গেছি নুসরাতকে। প্রতিটা নৃশংস হত্যাকান্ডের বিচার না হওয়া পর‌্যন্ত এই হত্যা হত্যা খেলা চলবেই।’

আবরারের নির্যাতনের ছবি শেয়ার করে এস এম নুর মোহাম্মদ নামে একজন সংবাদকর্মী লিখেছেন, ‘এই ছবি, এই নির্যাতনের চিহ্ন, এই লাশ আমি সহ্য করতে পারছি না। আমার বুক ফেটে কান্না আসছে। চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করছে। তাহলে তার মা-বাবা কিভাবে সহ্য করবে?’

নিলুফা আক্তার লিজা নামে একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘আমার তো মনে হয় না এই দেশে আর মেধাবীরা থাকতে চাইবে। এভাবে চলতে থাকলে এদেশে একসময় শুধু খুনি আর নিলজ্জরা থাকবে।’

এভাবে শত শত মানুষ তাদের ফেসবুক ওয়ালে আবরার হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar