ফ্রান্স টু জার্মানি: নেই বর্ডার, চেকপোস্ট

একদেশ থেকে অন্যদেশে ঢুকে পরছি কি যে প্রশান্তি !! বিমানের মত গাড়ীর গতি অটোপাইলট মোডের মত যেন সবসময় একই রকম।কোন বর্ডার নেই, চেকপোষ্ট নেই,কোন প্রশ্নও নেই, নেই কোন ইমিগ্রেশনের বাড়াবাড়ি। মোবাইলের বার্তায় শুধু মেসেজ দিচ্ছে ওয়েলোম বেলজিয়াম, ওয়েলকাম ফ্রান্স!!!

এত সুন্দর এত পরিছন্ন শহর এটাকে বিশ্বের অন্যতম সৌন্দর্য নগরী হিসাবেও গণ্য করা চলে। শহরের উপর দিয়ে বাসে করে শুধু একবার ঘুরে এসেছি। তাই সবকিছু দেখার সুযোগ হয়নি। তবে এক নজরেই এ শহরকে খুব ভাল লেগেছে। এর ছিমছাম ঘর-দুয়ার, দোকান-পাট, রাস্তা-ঘাট সবকিছু অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন ও সুরুচিসম্পন্ন।ফ্রান্সের কোলন শহরের কথা বলছিলাম। এ শহর অতিক্রম করে আমরা ছুটে গেলাম আরেক ঐতিহাসিক নগরী লিজ এর দিকে এটি বেলজিয়ামের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী।জার্মানী থেকে বাই রোডে যেতে যেতে প্রথমে বেলজিয়াম এর পর ফ্রান্স ।

এর আগে লিওনার্দো হোটেল থেকে সকাল ৯.১৫মিনিটে আমাদের বাস যাত্রা শুরু করল।। আমরা জার্মানীর উত্তরাঞ্চল দিয়ে পরিভ্রমণ করছি।এ এলাকাটি প্রায় সম্পূর্ণ কৃষি-প্রধান এলাকা। আমরা প্রশস্ত, সুরম্য রাজপথ পেরিয়ে অগ্রসর হচ্ছি। আজারবাইজানের ড্রাইভার গাড়ি চালাচ্ছে দ্রুত বেগে ১০০ কিমি পার আউয়ারে। রাস্তার দু’পাশে বি¯তীর্ণ শস্য-শ্যামল মনোরম প্রান্তর। সবুজের বিপুল সমারোহ মন ভরিয়ে দিচ্ছে। দেখে চোখ জুড়িয়ে যায় যেন। প্রাণ আনন্দে দুলতে থাকে। ডানে বামে সামনে চারদিকেই শুধু দৃষ্টিনন্দন কেবল। সবাই ছবি উঠাতে তৎপর , আমিও ব্যতিক্রম নই, মনের আনন্দের আতিশায্যে কেউ কেউ গান ধরল আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে ।

ছোটবেলা থেকে জেনে আসছি, বাংলাদেশ সবুজের দেশ। কিন্তু ইউরোপ সফরে বের হয়ে দেখলাম, এখানকার সবগুলো দেশই বাংলাদেশের মতোই সবুজ-শ্যামল-সুন্দর। মুহূর্তেই প্রিয় লালসবুজ মাতৃভূমির কথা মনে হয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠলাম।জার্মানীর উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ কৃষি এলাকা ছাড়িয়ে আমরা কিছুক্ষণের মধ্যে গিয়ে উপনীত হলাম একটি শিল্পোন্নত শহরে। প্রথমেই যে শহরের কথা বলছিলাম, এ শহরের নাম কোলন শহর ।

আধুনিক শিল্প-নগরী। জার্মানী পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিল্পোন্নত দেশ। সারা বিশ্বে জার্মানীর শিল্পজাত দ্রব্য রপ্তানী হয়ে থাকে। এর মানও অত্যন্ত উন্নত। তাই জার্মানীর শিল্পজাত দ্রব্যের চাহিদাও রয়েছে বিশ্বব্যাপী।জার্মানীর বিখ্যাত রাইন নদীর তীর ঘেঁষে চলছে আমাদের বিশাল মার্সিডিজ। আমরা সবাই নেমে পড়লাম। নদীর এক পাশে অনুচ্চ পাহাড়, আরেক পাশে বাড়ি-ঘর, দোকান-পাট, রাস্তা ও ভ্রমণকারীদের ভীড়ে সদা চঞ্চল। নানা দেশের, নানা জাতের মানুষের কল-কোলাহলে রাইনের তীর সদা মুখরিত। আমরা এখানে পথের পাশের একটি রেস্টুরেন্ট-এ বসে কিছু হালকা খাবার খেয়ে নিলাম।

কোবলেঞ্জ কোলন রোমান আমলে তৈরি একটি প্রাচীন শহর। শহরের জনসংখ্যা মাত্র দশ হাজার। তবে ভ্রমণকারীদের ভীড় এখানে সবসময়ই লেগে থাকে। অধিবাসীদেরকে মনে হলো খুবই সৌখিন ও সৌন্দর্য-বিলাসী। জার্মানীরা সকলেই বুঝি এরকম সৌন্দর্যপ্রিয়। রাইন নদীর ওপারে বরাবর বি¯তীর্ণ পাহাড়। পুরো পাহাড় এলাকা জুড়ে আবাদ করা হয়েছে। পাহাড়ের গায়ে খাচ্ কেটে কেটে আবাদী ভুমি তৈরি করা হয়েছে। কোথাও এতটুকু জায়গা খালি নেই। পুরো পাহাড় আবাদ করে নানা ফসলে ভরে তোলা হয়েছে। জার্মানরা শুধু সৌন্দর্য-প্রিয়ই নয়, তারা অসম্ভব পরিশ্রমী। সারা দেশে কোথাও এতটুকু জায়গা খালি দেখলাম না। বাড়ি-ঘর, শহর, দোকান-পাট, শিল্প-কারখানা, দিগন্ত বি¯তৃত ফসলের মাঠ, সবুজ বনানী ইত্যাদি সবকিছু যেন গা ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়িয়ে আছে। প্রকৃতির সাথে মানুষের যেন এক নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠেছে এখানে। প্রকৃতির মাঝেই তারা বেড়ে উঠেছে, এবং প্রকৃতি থেকেই তারা নানা উপাদান সংগ্রহ করে নিজেদের জীবনকে সুসম্পন্ন ও সুন্দর করে তুলেছে।

(পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদের ফেসবুক পোস্ট হতে সংগৃহীত)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar