বাংলাদেশে দুর্নীতি উদ্বেগজনক: টিআইবি

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ২০১৯ সালের দুর্নীতি সূচকে বাংলাদেশের স্কোর এবং অবস্থান উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটাতে হলে সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও শুদ্ধাচার জরুরি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে টিআইবির কার্যালয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) করা দুর্নীতির ধারণা সূচক (সিপিআই) প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

সিপিআই অনুযায়ী, বাংলাদেশ দুর্নীতি সূচকে নিম্নক্রম অনুযায়ী ১৪তম দেশ। বাংলাদেশের স্কোর ১০০ এর মধ্যে ২৬। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় এবং এশিয়ার ৩১ দেশের মধ্যে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

দুর্নীতি সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান বিব্রতকর বলে বলে মনে করেন ইফতেখারুজ্জামান।

২০০১ সাল থেকে ২০০৫ পর্যন্ত দুর্নীতিতে শীর্ষে থাকলেও টিআইবির প্রত্যাশা ছিল, দুর্নীতি দমনে বর্তমান সরকারের ‍জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণার পর বাংলাদেশের অবস্থান আরো ভালোর দিকে যেত। তবে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে শুদ্ধাচার না থাকা, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে রাখা, তথ্য অধিকার আইনসহ নানা করণে বাংলাদেশের অবস্থানের কোনো উন্নতি হয়নি।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গত বছরে সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের একটা প্রভাব এই র‌্যাংকিংয়ে রয়েছে। সরকারের সংস্থাগুলোর জবাবদিহিতা আরো বাড়াতে হবে। রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে শুদ্ধাচার নিয়ে আসতে হবে।

স্বজনপ্রীতি ও ভয়ের ঊর্ধে থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স ঘোষণা, সামাজিক পরিচয় ও অবস্থান বিবেচনা না করে দুর্নীতিগ্রস্তদের বিচারের আওতায় আনায় দুর্নীতি সূচকে বাংলাদেশের স্থিতিশীল থাকার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়েছেন ইফতেখারুজ্জামান।

পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ সূচকে উন্নতি করতে হলে দুদক, জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে। ব্যাংকিং সেক্টরে স্বচ্ছতা আনতে হবে।

দুদক স্বাধীনভাবে কাজ করছে কি না, সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আইনিভাবে দুদক স্বাধীন। তবে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে দৃঢ় মানসিকতার ঘাটতি লক্ষ করা গেছে। তথ্য প্রযুক্তিনির্ভর নয় তারা। তাদের সক্ষমতা আরো বাড়াতে হবে। সরকার  মনে করে, এটি তারা প্রতিষ্ঠা করেছে, এজন্য এটি তাদের প্রতিষ্ঠান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar