বারবার পার্লামেন্টে আটকে যাচ্ছে ‍ ব্রেক্সিট‍‍!

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়া সংক্রান্ত চুক্তিহীন ব্রেক্সিটকে পার্লামেন্টে আটকে দিতে এবার একটি বিল পাস করতে যাচ্ছে ব্রিটেন সরকার। শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ লর্ডসের অনুমতি ক্রমে বিলটি পাস করা হবে। যদিও এর আগে গত বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) প্রস্তাবটিতে সমর্থন জানান পার্লামেন্টের অধিকাংশ আইনপ্রণেতা। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন হাউজ অব কমন্সে একই দিন রাতে পরপর দুই দফায় পরাজিত হন।

এর আগে চলতি বছরের মে মাসে ব্রেক্সিট ইস্যুতে কোনো ধরনের সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারায় আচমকা পদত্যাগের ঘোষণা দেন ব্রিটেনের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। মূলত তার সরে দাঁড়ানোর পর দেশটির নতুন নেতা তথা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন কট্টর ব্রেক্সিটপন্থি নেতা বরিস জনসন।

যদিও নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে আগামী ৩১ অক্টোবর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিতর্কিত ব্রেক্সিট চুক্তি বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। প্রয়োজনে একটি চুক্তিহীন ব্রেক্সিট বাস্তবায়নেরও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি।

গত মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) জনসন নেতৃত্বাধীন সরকারের ব্রেক্সিট নীতির বিরোধীরা পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব পেশ করেন। যেখানে তারা যুক্তরাজ্যের স্বার্থ রক্ষার্থে চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে ব্রেক্সিটকে আরও বিলম্বিত করার কথাও বলেন। পরবর্তীতে পার্লামেন্টে প্রস্তাবটি পাশ হলে হেরে যান প্রধানমন্ত্রী জনসন। মূলত সেই ভোটাভুটিতে হেরে যাওয়ার পর বরিস দেশে আগাম নির্বাচনের প্রস্তাব আনার কথাও জানান।

তখন সংসদ সদস্যরা ‘নো-ডিল ব্রেক্সিট’ বা ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে চুক্তি ছাড়া বেরিয়ে যাবার বিষয়টি আটকে দিয়ে একটি বিল পাশ করেন। বিলটি প্রধানত সামনে এনেছে পার্লামেন্টের বিরোধী দলগুলো; যদিও পরবর্তীতে তাদের সঙ্গে যোগ দেন ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির একাধিক বিদ্রোহী এমপি। ধারণা করা হচ্ছিল ব্রেক্সিট সমর্থক আইনপ্রণেতারাই এই বলটিকে আটকে দেবেন। যদিও শেষ পর্যন্ত তা আর হয়ে ওঠেনি। শেষ মুহূর্তে হাউস অফ কমন্সের নিয়ন্ত্রণ রয়ে গেছে বিদ্রোহী এমপিদের হাতেই।

বিলে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন যদি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছায়; তাহলেও তিনি বিষয়টি পার্লামেন্টে আনতে পারেন না। যদিও ‘নো-ডিল ব্রেক্সিট’ আটকে দিয়ে পার্লামেন্টে যে বিল পাস হয়েছে সেটি এক অর্থে ইইউর কাছে আত্মসমর্পণের মতো বলেও মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী জনসন।

যদিও লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন মনে করেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন কখনোই জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী নন। তিনি কেবলই নিজ দলের সদস্যের ভোটে নির্বাচিত; তাই তাকে কোনোদিন গণতন্ত্রের পক্ষের লোক বলে বিবেচনা করা যাবে না।’

করবিনের ভাষায়, তিনি (বরিস) রাজনীতিতে সবসময়ই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অনুসরণ করছেন। আর এ কারণেই ব্রিটিশ জনগণ বর্তমানে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও চাকরিতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar