ভোট ডাকাতির নির্বাচন: ইসলামী আন্দোলন

পুলিশ ও র‌্যাবের পাহারায় ভোট ডাকাতির মহোৎসব হয়েছে, যা দেশের জন্য এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে থাকবে। নির্বাচনে সরকারদলীয় প্রার্থীদের হুমকি, ধমকি, হামলা, পিস্তল ঠেকানো, অফিস ভাঙচুর, আগুন দেয়া ও নিরপরাধ কর্মীদের গ্রেপ্তার-হয়রানির ঘটনা উৎসবের নির্বাচনকে আতঙ্কের নির্বাচনে পরিণত করেছে  ।

গতকাল জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব এটিএম হেমায়েতউদ্দীন।

এদিকে, দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা-৪ আসনের প্রার্থী সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী ভোটকেন্দ্র দখলের অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জন করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লাঙ্গল মার্কায় সিল দেয়া দুটি ব্যালট পেপার দেখিয়ে মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী দাবি করেন ১টা ১৫ মিনিটের দিকে শ্যামপুরের বাকচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারদলীয় লোকজন শতাধিক কেন্দ্র দখল করে সিল মারতে থাকে। সেখানে থাকা প্রিজাইডিং অফিসার, পুলিশ তাদের বাধা দেয়নি। আমি সেখানে দুটি ব্যালট কুড়িয়ে পেয়েছি, যেখানে দেখা যাচ্ছে লাঙ্গলে ভোট দেয়া। এ কারণে আমি  নির্বাচন বর্জন করছি।

সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব এটিএম হেমায়েতউদ্দীন অভিযোগ করেন, সারা দেশে নির্বাচনের নামে যে তামাশা হচ্ছে, তাতে আমরা দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরমভাবে উদ্বিগ্ন। বেশির ভাগ আসনে ভোট শুরুর কিছুক্ষণ পর থেকেই আমাদের সব এজেন্টকে জোরপূর্বক বের করে দেয়া হয়। এরপর সরকারি দলের প্রার্থীর পক্ষে একতরফা সিল মারা হয়। এক-দেড় ঘণ্টার মধ্যেই ব্যালট পেপার শেষ হয়ে গেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক ভোটার শেষ পর্যন্ত তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন নি। এতে প্রমাণিত হয় আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট শুরুর আগেই সরকারদলীয় লোকেরা ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্সভর্তি করে রেখেছেন। কোথাও কোথাও এই ভোট ডাকাতি প্রতিহত করতে গেলে আমাদের এজেন্ট ও ভোটারদের ওপর সশস্ত্র হামলা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনে বিভিন্ন জেলার অনিয়ম তুলে ধরেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব এটিএম হেমায়েতউদ্দীন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব মাহবুবুর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইমতিয়াজ আলম, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ফজলে বারী মাসউদ, ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী আবুল কাশেম, গণমাধ্যম সমন্বয়কারী শহিদুল ইসলাম কবির প্রমুখ। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar