রোহিঙ্গাদের সরব উপস্থিতি সামাজিক মাধ্যমে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে রোহিঙ্গারা। অনলাইন টিভি, ফেসবুক পেইজ ও ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে বাংলা, আরাকানি ও বার্মিজ ভাষায় নিজেদের বার্তা প্রচার করছেন তারা।ফেসবুকে রোহিঙ্গাদের সবচেয়ে বেশি সক্রিয় পেইজটির নাম ‘রোহিঙ্গা টিভি’।

এই পেইজের কাভার ফটোতে ব্যবহৃত ছবিটিতে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গণহত্যা, ধর্ষণ ও নিধন অভিযানের চিত্র বিভিন্ন পরিসংখ্যানের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। পেইজটিতে বর্তমানে লাইকসংখ্যা ১১৬১টি। কাভার ফটোতে ‘দ্য অনগোয়িং মিয়ানমার জেনোসাইড অ্যাগেইনস্ট রোহিঙ্গা’বা ‘রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের চলমান গণহত্যা’ স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। 

এছাড়া ইউটিউবে ‘রোহিঙ্গা টিভি’ নামে তাদের যে চ্যানেলটি আছে তাতে টেলিভিশনের মতো করেই রোহিঙ্গা সম্পর্কিত সর্বশেষ খবর জানানো হচ্ছে। এতে স্লোগান হিসেবে লেখা রয়েছে, ‘নিপীড়িত, নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের কথা বলতে আমরা আসছি শীঘ্রই…’। চ্যানেলটি যাত্রা শুরু করেছে ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি।

‘সংবাদভিত্তিক’ এই ইউটিউব চ্যানেলটিতে এখন পর্যন্ত আপলোড করা হয়েছে মোট ৩৬টি ভিডিও। যার মধ্যে ৩১টি ভিডিও আপলোড হয়েছে ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে। আর একটি আপলোড করা হয় গত আগস্টে। বাকি চারটি চলতি মাসের প্রথম চারদিনে আপলোড করা হয়েছে।

গত ৩০ আগস্ট রোহিঙ্গা নেতা মুহিববুল্লাহ’র একটি বিবৃতি প্রকাশ করে রোহিঙ্গা টিভির ইউটিউব চ্যানেল। বিবৃতিতে তিনি ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা গণহত্যা দিবসের স্মরণ সভার বিষয়ে বক্তব্য রাখেন।

‘রোহিঙ্গা টিভি’ নামে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালও রয়েছে। যেটিতে স্লোগান হিসেবে লেখা রয়েছে ‘ইন সার্চ অব ট্রুথ অ্যান্ড রাইটস’। তবে যোগাযোগের স্থলে কারও পরিচয় কিংবা কোথা থেকে এটি প্রকাশিত হচ্ছে সে সম্পর্কে কিছুই জানানো হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশে অবস্থানরত ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার মধ্যে অন্তত পাঁচ লাখ এ অনলাইন টিভি সম্প্রচারের দর্শক। তাদের হাতে রয়েছে অত্যন্ত উন্নতমানের স্মার্টফোন। এছাড়া রোহিঙ্গাদের নিজস্ব ফেসবুক গ্রুপ ও পেজেও সক্রিয় রয়েছে তারা। শুধু বাংলাদেশ নয়, মিয়ানমার সীমান্তের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে মোবাইল নেটওয়ার্ক। এটি ব্যবহার করে রোহিঙ্গারা সীমান্তের ওপারে অবস্থিত তাদের আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করেন।

বাংলা কিংবা বার্মিজ ভাষায় লেখা ছবি সংবলিত প্রতিটি ফেসবুক পোস্ট নিয়মিত ভাইরাল হচ্ছে। হাজারো রোহিঙ্গা তাতে মন্তব্য করছেন। পরিস্থিতি প্রতিকূল বুঝতে পেরেই স্থানীয় প্রশাসন রোহিঙ্গা শিবিরের মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়া স্থানীয়ভাবে রোহিঙ্গাদের মধ্যে সিম বিক্রি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থাও গ্রহণেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করে সেখানে কর্মরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তা এসব সক্রিয়তা নিয়ে নানা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, এভাবে চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ দিকে মোড় নিতে পারে। ভুয়া পোস্ট থেকে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়ে হামলার ঘটনাও ঘটতে পারে। যার ফলে কক্সবাজার, টেকনাফ, চট্টগ্রামের স্থানীয় জনসাধারণ বিপদের সম্মুখীন হবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar