শান্তির শহর প্যারিস

১. প্যারিস আপাদমস্তক শান্তির শহর।খুব ভাগ্যবান মানুষ হলে নাকি প্যারিস শহরে যেতে পারেন অস্কার ওয়াইল্ড নামের এক সাহিত্যিক ভাললাগার প্যারিসকে উদ্দেশ্য করে মজা করে বলেছিলেন মারা যাবার আগে আমেরিকানরা প্যারিসের মতো স্বর্গ পেলেই খুশি।

বিশ্বের সবচে রোমান্টিক শহর কোনটি? এ প্রশ্নের উত্তরে একবাক্যে সবাই মেনে নেবেন ফ্যান্সের রাজধানী প্যারিসের কথা। কৃষ্টি ও সংস্কৃতির এক অনন্য মিশেল এই নগরী দুই হাজার বছরেরও বেশি ঐতিহ্যের অধিকারী। এ নগরীকে দেখে প্রেমে পড়েননি এমন মানুষ বিরল। যারা একবার ফ্রান্সে বেড়াতে গেছেন আর পা পড়েনি প্যারিসে তা বিশ্বাস যেন হওয়ার নয়।এবার নিয়ে আমার দ্বিতীয়বার প্যারিসে আসা।প্যারিসের মতো গোছানো শহর পৃথিবীতে খুবই কম। আর সে জন্য সারাবছরই লাখো মানুষের পদচারণায় মুখর থাকে শহরটি।

চোখ ধাঁধানো সব সৌন্দর্য এবং হাজার বছরের ঐতিহ্য নিয়ে এ শহর যেন সত্যিই ‌’অর্ধেক নগরী আর অর্ধেক কল্পনা’!

২. শান্তির চাদরে ঢেকে থাকা এই প্যারিসে বেড়াতে আসা প্রতিটি বিদেশী নাগরিকের নিরাপত্তার ব্যাপারে সর্বদা সজাগ ফ্রেঞ্চ পুলিশ। কড়া এই আইনশৃঙ্খলা প্যারিসকে পর্যটকের স্বর্গভূমিতে রূপান্তর করেছে। আর এই শত-সহস্র বছরের পুরোনো এক রূপকথার নগরী প্যারিস তার আইফেল টাওয়ার, ল্যুভর মিউজিয়াম সহ শত শত কীর্তি নিয়ে হাত বাড়িয়ে ডাকে সারা বিশ্বের সৌন্দর্য পিপাসুদের।

ফ্রান্স পুলিশ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ জাতীয় ভিত্তিক। এখানে সারা দেশে অধীক্ষেত্র সম্পন্ন দুইটি পৃথক পুলিশ বাহিনী রয়েছে। এদের একটি সম্পূর্ণ বেসামরিক যাকে বলা হয় জাতীয় পুলিশ বাহিনী বা পুলিশ ন্যাশনাল। ২০০৮ সালের হিসেব মতে এই বাহিনীর মোট সদস্য সংখ্যা ১,৪৫,৬৯৯ জন। এর অধীক্ষেত্র হয় বড় বড় শহরগুলোতে। প্যারিস ফ্রান্সের রাজধানী এবং সবচেয়ে বড় শহর। স্বাভাবিকভাবেই প্যারিসের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা তথা পুলিশী কার্যক্রমের দায়িত্ব পড়ে পুলিশ ন্যাশনালের উপর।

অন্য দিকে ফ্রান্সের পুলিশ ব্যবস্থার সবচেয়ে বনেদি সংগঠন হল জাতীয় জেন্ডামারী। এই পুলিশ হল ফ্রান্সের সশস্ত্রবাহিনীর অংশ। ২০০৭ সালের হিসেব মতে এই বাহিনীর সর্বমোট সদস্য সংখ্যা ১,০৫,৯৭৫ জন। যদিও বর্তমানে এই পুলিশ বাহিনী মিনিস্ট্রি অব ইন্টেরিয়র অধীনে কাজ করছে, তবু্‌ও এর চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ হয় সশস্ত্রবাহিনী থেকেই। এই জেন্ডামারির অধীক্ষেত্র হল ছোট ছোট শহর, গ্রামাঞ্চল ও সীমান্তবর্তী এলাকাসমূহ।

ফ্রেঞ্চ পুলিশিং সম্বন্ধে এমন সম্যক ধারনা এবং বিভিন্ন বিষয়ে মিউচুয়াল এক্সচেঞ্জের জন্য আমাদেরকে আরও কয়েকদিন প্যারিসে থাকতেই হচ্ছে ।

(পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদ-এর ফেসবুক পোস্ট হতে সংগৃহীত)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar