ফাইল ছবি

শুদ্ধি অভিযান জরুরি

দুদকের কার্যক্রমে অদক্ষতা, সততার অভাব নিয়ে প্রশ্ন ছিল আগেও; কিন্তু এবারের ঘটনায় যেভাবে একজন পরিচালকের দুর্নীতির বিষয়টি নগ্নভাবে প্রকাশ পেল, সেটা সচেতন মানুষকে নিশ্চিতভাবেই হতাশ করেছে। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বড় ধরনের ইমেজ সংকটের চ্যালেঞ্জে পড়বে। কারণ মানুষের মনে এ ধারণা জন্মাবে যে, দুর্নীতি-অপরাধ করলে পার পাওয়ার সুযোগ দুর্নীতি বন্ধের জন্য গঠিত কমিশনই তৈরি করে দিতে পারে। রক্ষক যখন ভক্ষকের ভূমিকায় চলে আসে, তখন স্বাভাবিকভাবেই আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়। একইভাবে দুদকের প্রতিও মানুষের আস্থাহীনতা তৈরি হবে।

দুদক সংশ্নিষ্ট পরিচালককে বরখাস্ত করেছে সাময়িকভাবে; কিন্তু এটাই যেন শেষ না হয়। এ ধরনের অপরাধের জন্য সংশ্নিষ্ট ব্যক্তিকে বদলি করা, সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা, এমনকি চাকরিচ্যুতিও যথেষ্ট শাস্তি নয়। যে অপরাধ হয়েছে, সেটা বড় মাপের। এত বড় ঘুষের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে, আইনগতভাবে শক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। আইনে নির্ধারিত জেল-জরিমানা শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে সংশ্নিষ্ট পরিচালককে।

এ ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখলে চলবে না। বরং এটাকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে জরুরিভিত্তিতে দুদকের অভ্যন্তরে সার্বিক শুদ্ধি অভিযানে যেতে হবে। আরও কারা কারা এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তাদের এ শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। বড় আকারের শুদ্ধি অভিযান হলে দুদকের ভাবমূর্তি রক্ষায় তা সহায়ক হবে এবং দুদকের প্রতি মানুষের আস্থার জায়গাটা রক্ষা পাবে; কিন্তু দুদক যদি ঢিলেমি করে, সংশ্নিষ্ট ব্যক্তির অপরাধ অনুযায়ী উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা না করে, শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমে অপরাধপ্রবণতা মুক্ত করার উদ্যোগ না নেয়, তাহলে সেটা হবে দুর্ভাগ্যজনক।

এ ঘটনার মধ্য দিয়ে আরও একটি বিষয় পরিস্কার হয়েছে। পুলিশের একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়েই দুদক কর্মকর্তা নিজেও দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন। পুলিশের সেই কর্মকর্তা নিজে দুর্নীতি থেকে বাঁচতে আবারও অবৈধ লেনদেন করে, ঘুষ দিয়ে আরও একটি অপরাধ করেছেন। এর মধ্য দিয়ে এটাও প্রমাণ হয় যে, পুলিশের ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ সঠিক ছিল। দুদকের ভবিষ্যৎ তদন্ত এবং মামলায় পুলিশ কর্মকর্তার এই অবৈধ লেনদেন অবশ্যই একটি শক্ত প্রমাণ। এখন এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়াও সহজ হয়ে গেল।

লেখক: ড. ইফতেখারুজ্জামান, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক 

সূত্র-সমকাল.কম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar