সম্পদের হিসাব দিতে নির্দেশ ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের

ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেছেন, ‘ভূমি মন্ত্রণালয়সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জমা দিতে হবে। এটা মৌখিক ঘোষণা, আমি ঢাকায় গিয়ে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এর পরিপত্র জারি করব।’ শনিবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।

আজই ওই পরিপত্র জারি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন মন্ত্রী। দুর্নীতি রোধ ও মানুষের হয়রানি বন্ধে এ উদ্যোগ জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের সব ভূমি অফিস সিসিটিভি ক্যামরার আওতায় আনা হবে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভয়েস রেকর্ডসহ যাতে পাওয়া যায় সে ধরনের অ্যাপ সেট করা হবে। ইউনিয়ন থেকে শুরু করে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সব ভূমি অফিসের দৈনন্দিন কাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হবে সিসিটিভির মাধ্যমে। মন্ত্রণালয় থেকেই নিয়ন্ত্রণ করা হবে এ সিসিটিভি।

জাবেদ আরও বলেন, পাঁচ বছর প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে সততা ও ন্যায়-নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করেছি। দুর্নীতিমুক্ত মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছি। জনগণকে সেবা দেয়ার চেষ্টা করেছি। সারপ্রাইজ ভিজিটের মাধ্যমে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছি। প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও লিমিটেশনের কারণে অনেক কাজ করতে পারিনি। পূর্ণমন্ত্রী হওয়ার কারণে সেই সীমাবদ্ধতা কেটে গেছে।ভূমিমন্ত্রী বলেন, ভূমি সংক্রান্ত মামলা নিরসনে উদ্যোগ নেয়া হবে। মানুষের যাতে হয়রানি না হয় তার জন্য সব ব্যবস্থা করা হবে। বিভিন্ন পরিকল্পনা আছে। একটু সময় দেন। এক বছরের মধ্যে দৃশ্যমান উন্নতি হবে। তিনি বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত কার্যালয়গুলোতে হয়রানির অনেক বিষয় আছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স থাকবে। যাদের এখনও সমস্যা আছে, যারা মনে করছেন পারবেন না, তাদের কেটে পড়া উচিত।

সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, দুর্নীতিমুক্ত মন্ত্রণালয় গঠনকেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছেন তিনি। বৈপ্লবিক পরিবর্তনের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়কে টপ ফাইভে নিয়ে আসা হবে। ব্যর্থতার দায়ভার নিয়ে মন্ত্রণালয় থেকে বিদায় নিতে চাই না। মন্ত্রণালয় সামলানো কঠিন কাজ উল্লেখ করে তিনি দায়িত্ব পালনে সবার সহযোগিতা চান।

মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী হওয়ার খবর পাওয়ার সময়ের স্মৃতিচারণ করেন জাবেদ। তিনি বলেন, সেদিন ছিল রোববার। শেষ দিনের মতো প্রতিমন্ত্রী হিসেবে অফিস করছিলাম। অনেক কাজ অসমাপ্ত ছিল। পেন্ডিং থাকা কিছু ফাইলে স্বাক্ষর করছিলাম। এরপরই বিদায় নিতে হবে। নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় নাও থাকতে পারি। সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের অনেকের মধ্যে এ নিয়ে হতাশা। এক কর্মকর্তা তো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই কবিতার লাইন পড়ে শোনান- ‘যেতে নাহি দেব হায়, তবু যেতে দিতে হয়।’

ভূমিমন্ত্রী বলেন, ৫ বছর একসঙ্গে কাজ করেছি। তাই নিজের মধ্যেও খারাপ লাগছিল বৈকি। এমন সময় বেজে উঠল আমার মোবাইল ফোন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব কংগ্রেচুলেশন জানান। বললাম, এমপি হিসেবে একবার জানিয়েছেন তো। আবার কেন? মন্ত্রিপরিষদ সচিব বললেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকে একই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে নির্বাচন করেছেন। আপনি থাকছেন নতুন মন্ত্রিসভায়। বিদায়ের মুহূর্তে সেই ফোনটা ছিল অবিশ্বাস্য।’চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি কলিম সরওয়ারের সভাপতিত্বে সভায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নাজিমুদ্দিন শ্যামল, সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস, টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আলী আব্বাস প্রমুখ। অনুষ্ঠান সমন্বয় করেন সাংবাদিক এজাজ মাহমুদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar