কেউ অভিনেত্রী, কেউ জনসংযোগ কর্মী, কী তাঁদের মতামত। ছবি: অনন্য়া, সঙ্গীতা ও লাবণীর ফেসবুক পেজ থেকে

সহকর্মী বার বার বুকের দিকে তাকান!

কাজের জায়গায় মেয়েদের নানা ধরনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। সব কিছু আবার ক্রাইম বলে প্রমাণও করা যায় না, যেমন এই বিশেষ সমস্যাটি। সহকর্মী বার বার বুকের দিকে তাকান! মোকাবিলার কথা জানালেন তিন কন্যা।

বেশ কয়েক বছর আগে দীপিকা পাডুকোন এক বিশেষ সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশ্যে একটি টুইট করেন। সেই টুইট নিয়ে সারা দেশেই তোলপাড় হয়। দীপিকা লিখেছিলেন যে হ্যাঁ, তিনি একজন নারী, তাঁর স্তন আছে এবং স্বাভাবিক ভাবেই তাঁর ক্লিভেজও আছে। আর তাঁর ক্লিভেজ নিয়ে একটুও বিব্রত নন তিনি।

দীপিকার মতো করে ভাবেন, এমন মেয়েদের সংখ্যা এদেশে কিছু কম নয়। এবং এটা ভাবার কোনও কারণ নেই যে শুধুমাত্র সমাজের উচ্চশিক্ষিত এবং উচ্চবিত্ত স্তরের মেয়েরাই এমনটা ভাবেন। যে মেয়েরা তাঁদের পুরুষ সঙ্গীদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পাথর ভাঙেন, অথবা ইঁট বয়ে আনেন কনস্ট্রাকশন সাইটে, তাঁরাও ক্লিভেজ বা অঙ্গ প্রদর্শন নিয়ে মাথা ঘামান না। কাজের সময়ে শাড়ির ফাঁকে তাঁদের কোমর বা বুক দেখার আগ্রহ এবং ‘দায়’টা বিকৃত পুরুষের, তাঁদের নয়।

কিন্তু যাকে আমরা অফিস বা সাজানো-গোছানো কাজের জায়গা বলি, সেখানে সমীকরণগুলি অন্য রকম। কাজের সময়ে পুরুষ সহকর্মীদের চোখ বার বার যদি কারও বুকের দিকে যায়, তবে ঠিক কীভাবে সেই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি থেকে নিজেদের বাঁচাবেন মহিলারা! এই বিশেষ বিষয়টি এমন যে , তথ্যপ্রমাণ দিয়ে অভিযোগ করা যায় না। তবে?

অনন্য়া বিশ্বাস

অভিনেত্রী অনন্যা বিশ্বাস বললেন, ‘‘সবাই জানে, আমি যা বলি, মুখের ওপর বলি। কথা বলার সময়ে কেউ আমার সঙ্গে এটা করলে, আমি তাকে সরাসরি বলব যে— আপনি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলুন। তার পরেও যদি সে কথা না শোনে, তবে কথাটা সম্পূর্ণ না করেই আমি সেই জায়গা ছেড়েই চলে যাব। আর তাকে বলে দেব যে, তার সঙ্গে কাজ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। সে যে কেউ হতে পারে, অভিনেতা, পরিচালক, প্রযোজক, যে কেউ।’’

এখানে অবধারিত ভাবে একটা প্রসঙ্গ আসবে। যাঁরা মেয়েদের পোশাক নিয়ে ছুঁৎমার্গে বিশ্বাস করেন, তাঁরা বলবেন যে মেয়েরা যদি অফিসে বা কাজের জায়গায় এমন কোনও পোশাক পরে আসেন যাতে তাঁদের ক্লিভেজ উন্মুক্ত, তবে তো সেটা সবাইকে দেখানোর জন্যেই। সহকর্মীরা দেখলে সেখানে দোষ কী?

সঙ্গীতা দাস

দোষটা আসলে দেখার ভঙ্গিমাতে। কোনও মা যখন সবার সামনে সন্তানকে স্তন্যপান করান, দু’ধরনের পুরুষ সেটা তাকিয়ে দেখেন। একদল যাঁরা মা ও সন্তানকে দেখেন এবং অন্যদল, যাঁরা শুধুই স্তন দেখেন। সহকর্মীর কাছে আকর্ষণীয় হতেই পারেন কোনও নারী, কিন্তু কাজের কথা বলার সময় তাঁর ক্লিভেজের দিকে তাকানো, আসলে সেই নারীর পেশাদারিত্বকে অসম্মান করা! আর সেটা বিকৃতির পরিচয়।

কাজের জায়গায় এই ধরনের পরিস্থিতিতে অনেকবার পড়েছেন জনসংযোগ কর্মী সঙ্গীতা দাস। জানালেন, ‘‘আমার সঙ্গে অনেক বার এমনটা ঘটেছে, অনেকের সঙ্গেই ঘটে। আমার মনে হয়, সরাসরি বলে দেওয়া উচিত। আমি এখন যেখানে কাজ করি, সেখানে এরকম কিছু হয়নি কিন্তু আগের অফিসে ঘটেছে। আর সেখানে আমি কিন্তু স্পষ্ট ভাষায় আমার বিরক্তির কথা জানিয়েছি।’’

লাবণী ভট্টাচার্য

তবে অভিনেত্রী লাবণী ভট্টাচার্য সম্পূর্ণ অন্য পার্সপেক্টিভ থেকে এই সমস্যাকে দেখছেন। টেলিভিশনের এই অভিনেত্রীর মতে, যুক্তি, এথিকস, সৌজন্যবোধ, মেয়েদের সম্মান প্রদর্শন, এগুলো তো সব পুরুষ সহকর্মীদেরই জানা। তার পরেও তো একই জিনিস ঘটতে থাকে। তাই একটু অন্যভাবে এই ধরনের পরিস্থিতির মোকাবিলা করা যাক। লাবণী জানালেন, ‘‘কেউ যদি কথা বলতে বলতে বার বার এমনটা করে, তাহলে আমি কিচ্ছু না বলে, হাঁটু মুড়ে নীচু হয়ে যাব, তাহলে তার চোখের লেভেলে আমার চোখটা এসে যাবে। তখন নিশ্চয়ই সে বুঝবে। একবারে না বুঝলে, বার বার এমনটা করব এবং হাসতে হাসতে করব। তার পরে নিশ্চয়ই তার একটু লজ্জা করবে!’’

সূত্র- এবেলা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar