ফাইল ছবি

‘৭১ শতাংশ আইন ১ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে পাস হয়েছে’

কার্যকর বিরোধী দলের অভাবে সরকারি দলের একচ্ছত্র চর্চা বৃদ্ধি ও কথিত বিরোধী দলের দ্বৈত নীতির কারণে দশম জাতীয় সংসদ জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি বলে মনে করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। আজ বুধবার সকালে রাজধানীতে টিআইবির কার্যালয়ে দশম জাতীয় সংসদ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন প্রতিবেদন ‘পার্লামেন্ট ওয়াচ’-এর প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি।

সংসদীয় গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অন্যতম উপাদান সংসদ। কয়েক বছর ধরে সময়ের ভিত্তিতে সেই সংসদের খণ্ডিত ও পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম আর সদস্যদের ভূমিকার ওপর মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে টিআইবি। আজ প্রকাশ করা হয় ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের অক্টোবর পর্যন্ত হওয়া দশম জাতীয় সংসদের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন প্রতিবেদন ‘পার্লামেন্ট ওয়াচ’।

এ সময় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ‘সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা সরকারি দলের একচ্ছত্র চর্চা ছিল। এবং এর পাশাপাশি যেটি ছিল যে, আমাদের পঞ্চম সংসদ থেকে শুরু করে নবম সংসদ পর্যন্ত যে একটা সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিল, সে সংসদ অধিবেশন বর্জনের সংস্কৃতি, অর্থাৎ বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সংসদ বর্জন করার যে সংস্কৃতিটা ছিল, সেটি বন্ধ হয়েছে। তবে অনেক মূল্যের বিনিময়ে। মূল্যটা ছিল এমন যে, মাথাব্যথার কারণে মাথা কেটে ফেলা হয়েছে। অর্থাৎ, বিরোধী দল বলতে যা বোঝায়, যেটি আমাদের সংসদীয় গণতন্ত্রে যেকোনো দেশের জন্য অপরিহার্য, সত্যিকার অর্থে, বিরোধী দলের যে ভূমিকাটি, সে ভূমিকাটি আমরা পাইনি।’

এ ছাড়া দশম জাতীয় সংসদের ২৩টি অধিবেশনে মোট ১৯৪ ঘণ্টা ৩০ মিনিট কোরাম সংকট হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ১৬৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। তবে তা আগের দুই সংসদের তুলনায় কমেছে। সে হিসাবে প্রতিটি বিল পাসে গড় সময়ও বেড়েছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘৭১ শতাংশ আইন এক মিনিট থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে পাস হয়ে গেছে। এটা কিন্তু আরো বড় দুঃসংবাদ। আমাদের যে সংসদ সদস্যরা, যাঁরা আইনপ্রণেতা, তাঁরা আইনটাকে সত্যিকার অর্থে দেখেছেন কি না, পড়েছেন কি না, কিসের ওপরে তাঁরা ভোট দিয়েছেন, সেটি সম্পর্কে তাঁদের সম্যক ধারণা ছিল, এটা কিন্তু আমরা বুকে হাত দিয়ে বলতে পারব না। কাজেই এ ক্ষেত্রে যে বড় একটা ঘাটতি, সেটার কিন্তু প্রকট দৃষ্টান্ত আমরা দেখতে পাচ্ছি।’

এ সময় সংসদকে কার্যকর করতে সদস্যদের স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের জন্য সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন ও সংসদ সদস্য আচরণ আইন প্রণয়নসহ ১১টি সুপারিশ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar