আপীলে আটকে গেল বিএনপির ৩ প্রার্থীর ভোট

উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ না করায় বিএনপির তিন প্রার্থী নির্বাচন করতে পারবেন না বলে আদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

সোমবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

যে তিন প্রার্থী নির্বাচন করতে পারবেন না তারা হলেন- বগুড়া-৩ আসনে আদমদিঘী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মুহিত তালুকদার, বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনের শাহজাহানপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরকার বাদল ও ঢাকা-২০ আসনে তমিজউদ্দিন।

আইনজীবীরা জানান, উপজেলা চেয়ারম্যান লাভজনক পদ হওয়ায় আদালত বলেছেন তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।

আদালতে চেয়ারম্যানদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী ও প্রবীর নিয়োগী। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, আইনজীবী ওবায়দুর রহমান মোস্তফা ও ব্যারিস্টার কামারুন মাহমুদ দীপা।

তমিজউদ্দিন : ধামরাই উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে তমিজউদ্দিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণের আগেই তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেন। রির্টার্নিং কর্মকর্তা ২ ডিসেম্বর তা বাতিল করেন। এর বিরুদ্ধে তিনি আপিল করলে ইসি ৬ ডিসেম্বর আপিল মঞ্জুর করে বৈধ প্রার্থী ঘোষণা করে।

পরে এর বিরুদ্ধে রিট করেন ওই আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী বেনজীর আহমেদ। ১১ ডিসেম্বর বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ তমিজউদ্দিনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া সিদ্ধান্ত স্থগিত করে রুলসহ আদেশ দেন।

হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে তমিজউদ্দিনের আবেদনের পর বুধবার (১২ ডিসেম্বর) চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠানোর আদেশ দেন।

মুহিত ও সরকার বাদল : বগুড়া-৩ আসনে আদমদিঘী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মুহিত তালুকদার ও বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে শাহজাহানপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরকার বাদলের মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন।

এরপর প্রার্থিতা ফিরে পেতে তারা হাইকোর্টে আবেদন করেন। হাইকোর্ট ৯ ডিসেম্বর আলাদা রিটের শুনানি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন। পরে এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে নির্বাচন কমিশন। আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে দেন। একইসঙ্গে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠানোর আদেশ দেন। মঙ্গলবার পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ আদেশ বহাল রেখেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar