গ্রেফতার হামলা বন্ধে সিইসির হস্তক্ষেপ চায় বিএনপি

প্রতীক বরাদ্দের পরও বিএনপির নেতাকর্মীদের হয়রানি, গ্রেফতার ও সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা বরাবর আবারও চিঠি দিয়েছে বিএনপি। তবে সিইসি ‘কিছুই করতে পারছে না’ বলে তাকে অসহায় মনে করছে দলটি। নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও হয়রানি অব্যাহত থাকায় নির্বাচনের সময় কোনো এজেন্ট পাওয়া যাবে কি-না তা নিয়েও চিন্তিত বিএনপি। 

গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল দেখা করে। সাক্ষাৎ শেষে সেলিমা রহমান অভিযোগ করেন, সারাদেশে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হচ্ছে। পুলিশ এসব হামলা ঠেকানো বা সে সব বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে উল্টো তাদের গ্রেফতার-হয়রানি করছে। তিনি জানান, এসব বিষয় প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে জানালেও তিনি সুনির্দিষ্টভাবে আশ্বাস দিতে পারেননি। তারা মনে করেন, সিইসি অসহায়। তিনি বিব্রত বোধ করছেন, কারণ তিনি কিছু করতে পারছেন না।

সেলিমা রহমান বলেন, তফসিল ঘোষণার পর থেকে আর কোনো নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হবে না বলে জানিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু গ্রেফতার-হয়রানি বন্ধ হয়নি। অজ্ঞাতনামা মামলার নামে তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সিইসিকে জানালে তিনি জানান, পুলিশের সঙ্গে এ বিষয়ে তারা কথা বলেছেন। পুলিশ বলেছে, তাদের নামে মামলা আছে। কমিশন এ বিষয়ে চেষ্টা করছে এবং করবে বলে জানান তিনি। 

নির্বাচনে নিজেদের এজেন্ট খুঁজে পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে বিএনপির এ ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, কমিশন বলেছিল লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দেবে, যাতে সব রাজনৈতিক দল সমান সুযোগ পাবে। কিন্তু আমাদের নেতাকর্মীরা পলাতক। আমরা বলতে পারছি না যে, কোন কোন জায়গায় এজেন্ট ?খুঁজে পাব। কেননা পুলিশের ভয়ে তারা পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

ইসির সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, যারা সহিংসতা করেছে, তাদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছি, একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কমিশনকে সহযোগিতা করেত চাই।

প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বিজন কান্তি সরকার প্রমুখ। 

মোহাম্মদপুর থানা বিএনপির সভাপতি আটকের অভিযোগ ইসিতে :মোহাম্মদপুর থানা বিএনপির সভাপতি ওসমান গণি শাহজাহানকে পুলিশ আটক করেছে বলে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে অভিযোগ করেছেন ঢাকা-১৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী আবদুস সালাম। গতকাল বুধবার তিনি এ অভিযোগ করেন।

আবদুস সালাম সাংবাদিকদের জানান, গতকাল কয়েকজন নেতাকর্মী নিয়ে নির্বাচন কমিশনে গ্রেফতার-হয়রানির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে এসেছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন ওসমান গণি। নির্বাচন কমিশন কার্যালয় থেকে বেরিয়ে তাকে আগারগাঁওয়ে নামিয়ে দেন আবদুস সালাম। কিছুক্ষণ পর জানতে পারেন পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে গেছে। ঘটনাটি আবার দ্রুত তিনি নির্বাচন কমিশনকে জানানোর জন্য আগারগাঁও আসেন। 

ববি হাজ্জাজের নালিশ :নির্বাচন কমিশনে নালিশ জানাতে এসে প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ঢাকা-৬ আসনে হারিকেন মার্কার প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। বহুল আলোচিত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসেরের বড় ছেলে ববি ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট (এনডিএম) ও গণঐক্যের চেয়ারম্যান। দলের নিবন্ধন না থাকায় ঢাকা-৬ আসনে তিনি প্রার্থী হয়েছেন বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মার্কা হারিকেন নিয়ে।

গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এসে ববি হাজ্জাজ অভিযোগ করে বলেন, গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে তার কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছে ওই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী কাজী ফিরোজ রশিদের লোকজন। তবে নির্বাচন ভবনে এ সময় সিইসি ছিলেন না। তার দেখা না পেয়ে ক্ষোভ জানিয়ে তিনি বলেন, তিনি চিঠি দিয়েছেন ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের হাতে। ববি বলেন, ‘সচিব কোনো প্রতিকার দিতে পারেননি। নির্বাচন যেন একটা দুধ-ভাত খেলা, আমাদের কর্মীরা যেন দুধ-ভাত।’

আইজিপির সঙ্গে দেখা করলেন বিএনপি নেতারা :নির্বাচনী প্রচারে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও হয়রানি করা হচ্ছে- এমন অভিযোগ তুলে তা বন্ধের জন্য পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর সঙ্গে দেখা করেছে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল। গতকাল বিকেলে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমানের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল পুলিশ সদর দপ্তরে যায়। 

বিএনপির প্রতিনিধি দলে সাবেক আইজিপি আবদুল কাইয়ুমও ছিলেন। আইজিপির কার্যালয় থেকে বেরিয়ে সেলিমা রহমান সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, হয়রানি করছে। সে জন্য নির্বাচনের প্রচারকাজ চালানো যাচ্ছে না। পুলিশপ্রধান তাদের সব অভিযোগ শুনেছেন। বিএনপির দাবিগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar