‘নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে এ হামলা’

ঠাকুরগাঁওয়ে গাড়িবহরে হামলার বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচনে থেকে দূরে রাখতে এ হামলা হয়েছে। আমি আমার লোকজনকে বলেছি, কোনো উসকানিতে পা দেবেন না। আমরা নির্বাচনে যাব এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দেখব।

মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের বানারহাট এলাকায় এ হামলা হয়। তবে এতে কেউ হতাহত হননি।

তিনি আরও বলেন, এখানে আসা মাত্রই আমাদের গাড়িবহরে হামলা হয়েছে। আমাদের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন ঘটনার অনেক পর ঘটনাস্থলে এসেছে। তাদের উচিত ছিল ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে আসা। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ যারা এখানে উসকানি দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব।

এ সময় তার সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচন করছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নির্বাচনী প্রচারণা হিসেবে আজ তিনি ঠাকুরগাঁওয়ে গণসংযোগে যান।

গত সোমবার বিকালে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, আমি মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁও যাব। সেখানে ভোটের প্রচারে অংশ নেব। এরপর বগুড়াও যাব। সেখানে দুদিন থেকে ঢাকায় ফিরে আসব।

এদিকে, বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই মহাসচিব মির্জা ফখরুলের গাড়িবহরে হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সুইডেনে এক অনুষ্ঠানে বিএনপিকে নির্বাচনে আসার অনুরোধ করেছেন। তার একদিন পরই মির্জা ফখরুলের গাড়িবহরে এ আক্রমণ। এ আক্রমণই প্রমাণ করে সরকার বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে চায়।

মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর গাড়িবহরে হামলাকারী সন্ত্রসীদের গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে অপরাজেয় বাংলাদেশ নামের একটি সংগঠন।

কিছুদিন আগে আমাকে জামা খুলে পিটিয়েছে উল্লেখ করে জয়নুল আবদিন বলেন, এবার মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পিটিয়েছে। যারা মির্জা ফখরুলকে পিটিয়েছে, তাদের নিয়েই হাছান মাহমুদ মাটি কাটার নাটক করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমি ভেবেছিলাম সরকারের অনির্বাচিত এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাথে সাথে তদন্ত করে কোনো ব্যবস্থা নেবেন, কিন্তু তা তিনি না করে সময়ক্ষেপণ করছেন। এর পরিণাম কখনও শুভ হবে না।

বিএনপিকে বাদ দিয়ে দেশে কোনো নির্বাচন হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে আমরা প্রতিটি গ্রামে গিয়ে গ্রামবাসীকে নিয়ে এই অবৈধ সরকারের ভোট চুরি ঠেকিয়ে প্রতিবাদ করব।

বিএনপি নেত্রী ফরিদা মনি শহিদুল্লাহর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সালাম, জিয়া নাগরিক ফোরামের (জিনাফের) সভাপতি মিয়া মহাম্মদ আনোয়ার প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar