‘বিএনপিতে এখন গণভাটা চলছে’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমি গত তিন-চারদিন ঢাকায় ছিলাম না। ফেনী, কুমিল্লায় আমার নির্বাচনি এলাকায় গিয়েছি। সেখানে বিএনপির কোনো প্রার্থী এখনও পর্যন্ত মাঠে নেই। কিন্তু তারা বলছে, গণজোয়ার। আমার কাছে বিষয়টি বড় হাস্যকর মনে হয়। এটা গণজোয়ার না, এটা গণভাটা। বিএনপিতে এখন গণভাটা চলছে। জোয়ারের মুখ গত ১০ বছরেও বিএনপি দেখেনি, এমনকি ছোট ঢেউ কোথাও কেউ লক্ষ্য করেনি। বুধবার দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের নির্বাচনি প্রচারণা সভায় এ কথা বলেন তিনি।

কাদের বলেন, বিএনপি আবারো প্রমাণ করলো তারা সন্ত্রাসী দল। কানাডার আদালত ভুল কোনো রায় দেয়নি। নোয়াখালীর এওজবালিয়া ইউনিয়নে যুবলীগ কর্মী হানিফ ও ফরিদপুরে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ইউসুফ আল মামুনকে গতকাল নৃশংসভাবে হত্যা করেছে তারা। 

তিনি আরও বলেন, আমি ফেনী, কুমিল্লায় আমার নির্বাচনি এলাকায় গিয়ে যে দৃশ্য দেখেছি, এরকম জনস্রোত আমি এর আগে কখনও নৌকার পক্ষে দেখিনি। গতকাল মওদুদ আহমদ প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন। আমি বিভিন্ন জনকে জিজ্ঞেস করে জানতে পেরেছি, তার জনসভার লোক হয়েছে ১৫০০ থেকে ২০০০ জন। নির্বাচনি প্রচারণায় যাওয়ার সময় তাদের হাতে লাঠি-সোটা ককটেল এগুলো থাকে। এসবের বেধড়ক ব্যবহার করে আমাদের কিছু কর্মীকে আহত করেছে। এরপরে জনগণের প্রতিরোধের মুখে তিনি উপজেলায় একটি সভা-সমাবেশও করতে পারেননি। 

বিএনপিকে শান্তিপূর্ণ পথে আসার আহ্বান জানিয়ে কাদের বলেন, ৫০ শতাংশ সুষ্ঠু ভোট কেন বলছেন, ভোট শতভাগ সুষ্ঠু হবে। আপনারা যে মুসলিম লীগের কাছাকাছি চলে গেছেন, ভোটে সেটা পরিষ্কার হয়ে যাবে। আপনারা নির্বাচনে থাকুন, আপনারা সরবেন না। আপনাদের শেষ পর্যন্ত থাকা দরকার। আপনাদের জনপ্রিয়তা কতটুকু সেটা ৩০ তারিখে জনগণ বুঝিয়ে দেবে। সেটা দেখার জন্য হলেও আপনাদের থাকা উচিত। আপনাদের সেই শোচনীয় পরাজয়ের জন্য অপেক্ষা করুন, শান্তিপূর্ণ পথে আসুন। নিজেরা গোলমাল করে আওয়ামী লীগের ঘাড়ে দোষ দেবেন না। 

বিএনপির নির্বাচনের হাট ভেঙে গেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, তাদের নেতারা মনোনয়নের জন্য টাকা দিয়েছে, সেই টাকা পাচ্ছে না। এখন তারা কখনও ফখরুলের অফিস ভাঙে, কখনও তারা খালেদা জিয়ার গুলশানের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায়।

মিডিয়া কর্মীদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে ফখরুলের কর্মীরা বিক্ষোভ করেছে- কোনো কোনো মিডিয়া এটা প্রচার করেছে। অথচ আমাদের দুই কর্মীকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো, সেই খবর কোনো মিডিয়াতে নেই। আপনারা আমাদের সঙ্গে এমন আচরণ করছেন কেন? একটা দল হিসেবে আমরা তো অতিরিক্ত কিছু চাইছি না। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন— আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, উপ-সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপ-দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া। আরও উপস্থিত ছিলেন— অভিনেত্রী শমী কায়সার, তানভীন সুইটি, অরুণা বিশ্বাস, রোকেয়া প্রাচী, অভিনেতা শাকিল খান, শাহরিয়ার নাজিম জয়, গায়ক শুভ্র দেব, ব্যবসায়ী নেতা আতিকুল ইসলাম আতিক প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar