সহিংসতা রোধে ইসিকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ আ.লীগের

দেশের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্ট সহিংসতা ঠেকাতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচটি ইমাম। তিনি বলেছেন, এ পর্যন্ত হামলার বেশিরভাগই আওয়ামী লীগের ওপরে হয়েছে। ইতিমধ্যে তাদের দু’জন কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। 

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় এইচটি ইমামের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল ইসিতে গিয়ে এসব বিষয়ে কথা বলে। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা ড. হাছান মাহমুদ, ড. সেলিম মাহমুদ প্রমুখ। অন্যদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বে অন্য চার কমিশনার ও ইসি সচিব তখন উপস্থিত ছিলেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর পরপরই দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। যাতে এ পর্যন্ত দু’জনের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। 

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ও হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এর বেশিরভাগই আওয়ামী লীগের ওপর হচ্ছে। ইতিমধ্যে দু’জন কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। বেছে বেছে আক্রমণ করা হচ্ছে; এটা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়টি তারা কমিশনকে অবহিত করেছেন। 

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহরে হামলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তারা তথ্য সংগ্রহ করেছেন। মির্জা ফখরুল পুলিশকে কোনো খবর না দিয়ে সেখানে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘বিএনপির নয়াপল্টন ও গুলশান অফিসে মনোনয়ন-বাণিজ্যের বিষয়টি তুমুল তোলপাড় সৃষ্টি করেছে, যা ব্যাপকভাবে আলোচিতও হয়েছে। এটি মির্জা ফখরুল ইসলামের এলাকায়ও হয়েছে। এখানে তার দলের লোকেরাই নিজেদের মধ্যে মারামারি করেছে। সেখানে আওয়ামী লীগের কেউ ছিল না।’

এইচটি ইমাম বলেন, ‘নির্বাচনের আগে নানারকম সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটতে পারে, সেগুলো সম্পর্কে আমরা সবাই তৎপর। ২০১৩-১৪ সালে ও মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর দোসররা যেভাবে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল, এগুলো আমরা স্বাধীন বাংলাদেশে বরদাস্ত করতে পারি না।’

তিনি বলেন, ইসিকে তারা বলেছেন- আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের কর্তৃত্বাধীন, ইসি তাদের ব্যবহার করুক। যাতে করে এই ধরনের ঘটনা না ঘটে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী বা যাদের নৌকা প্রতীক দেওয়া হয়েছে; যেমন মাহী বি. চৌধুরীর ওপর হামলা হয়েছে। কিন্তু এটা নিয়ে মিডিয়া কথা বলছে না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিকে তিনি ইসির ব্যর্থতা বলতে চান না; তবে তাদের এখনই সতর্ক হতে হবে। 

চার পর্যবেক্ষক সংস্থার বিষয়ে আপত্তি

নির্বাচনের পর্যবেক্ষক হিসেবে ইসির নিবন্ধিত ও তালিকাভুক্তদের মধ্যে চারটি সংস্থার ওপর আওয়ামী লীগের আপত্তির কথা জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে এইচটি ইমাম বলেন, দেশের ১১৮টি নিবন্ধিত পর্যবেক্ষণ সংস্থার মধ্যে চার সংস্থার বিষয়ে তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে। দীর্ঘদিন পর্যবেক্ষণের পর তাদের কাছে মনে হয়েছে, এই চার সংস্থার কার্যক্রম একেবারেই দলীয়। এ সময় তিনি ডেমক্রেসিওয়াচের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই সংস্থার প্রধান তালেয়া রেহমান হচ্ছেন শফিক রেহমানের স্ত্রী। এই শফিক রেহমান বিএনপির একজন বড় নেতা। 

আরেকটি হচ্ছে খান ফাউন্ডেশন। এটি বিএনপি নেতা মঈন খানের স্ত্রীর নামে নিবন্ধিত। এটি একেবারেই পারিবারিক ও বিএনপির প্রতিষ্ঠান। আর একটি হচ্ছে বগুড়ার লাইট হাউস। এর প্রতিষ্ঠাতা বিএনপির তারেক রহমান নিজেই। এর সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে বিভিন্ন রকমের তথ্য আছে। আরেকটি হচ্ছে, বাংলাদেশ মানবাধিকার সমন্বয় পরিষদ। এর আগে আদিলুর রহমান খানের অধিকার নামে যে প্রতিষ্ঠান ছিল, তার সঙ্গে বিদেশি কয়েকটি সংস্থার যোগাযোগ পাওয়া গিয়েছিল। সেই কারণে অধিকার নামে তাদের প্রতিষ্ঠান বাতিল করা হয়। এটি আবার বাংলাদেশ মানবাধিকার সমন্বয় পরিষদ নামে নিবন্ধিত হয়েছে। এজন্য আমরা খুবই উদ্বিগ্ন যে, এরা যদি পর্যবেক্ষণে থাকে বা তাদের কোনোভাবে নিয়ন্ত্রণ না করা হয়, তাহলে বিপর্যয় ঘটতে পারে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জানিপপের বিষয়ে আমাদের কোনো অবজারভেশন নেই। জানিপপের বিরুদ্ধে এখানে অভিযোগ করা হয়েছিল। এই জন্য যে, এর প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছেন অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ। তিনি একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর। তিনি এর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারেন না। তিনি এখন নেইও। এটির পরিচালনায় অন্যরা রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar