
বাংলাদেশকে দেওয়া ভারতের তিনটি ঋণ কর্মসূচি – লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন সিদ্ধান্তের ফলে, বর্তমানে এর তালিকায় থাকা ৪০ প্রকল্প থেকে কমপক্ষে ১১টি প্রকল্প বাদ যাবে।
অনুমোদন পর্যায়ে থাকা প্রকল্প এবং অনুমোদন হলেও নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি, এমন প্রকল্প এলওসি থেকে বের হয়ে যাবে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) কর্মকর্তাদের মতে, এর ফলে এলওসির মোট আকার ৭৩৪ কোটি ডলার থেকে হ্রাস পেয়ে হবে ৪৬৮ কোটি ডলার।
গত ৫ ও ৬ মার্চ দুই দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত এলওসি পর্যালোচনা সভা থেকে এসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছ। রাজধানীর শেরে বাংলানগরের ইআরডির সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সস্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব মিরানা মাহরুখ এবং ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লাইন অব ক্রেডিটের পরিচালক সুজা কে মেনন— নিজ নিজ দেশের পক্ষে সভায় নেতৃত্ব দেন।
২০১০ সালের ৭ আগষ্ট বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রথম ১০০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি সই হয়। এবং পরে ২ কোটি ডলার অনুদান ঘোষণা করে ভারত, আর কিছু নতুন ঋণ যোগ হয়ে প্রথম এলওসির আকার দাড়ায় ৮৬ কোটি ২০ লাখ (৮৬২ মিলিয়ন) ডলার। এই এলওসির তালিকায় ১৫টি প্রকল্প নেওয়া হয়। এরমধ্যে ১২টি’র বাস্তবায়ন কাজ শেষ হয়েছে। বাকি তিনটি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত প্রথম এলওসির অর্থছাড় হয়েছে ৭৬ কোটি ৮৭ লাখ (৭৬৮.৭০৫ মিলিয়ন) ডলার।
২০০ কোটি ডলারের দ্বিতীয় এলওসি চুক্তি সই হয় ২০১৬ সালের ৯ মার্চ। দ্বিতীয় এলওসির তালিকায় ১৫টি প্রকল্প নেওয়া হলেও— পরে তিনটি প্রকল্প বাদ যায়। বর্তমানে ১২টি প্রকল্প এই তালিকায় রয়েছে। গত জুন পর্যন্ত দ্বিতীয় ঋণে ছাড় হয়েছে প্রায় ৫১ কোটি ৮৮ লাখ ডলার।
দ্বিতীয় এলওসির দুটি প্রকল্প খুলনা-দর্শনা রেললাইন এবং পার্বতীপুর থেকে কাউনিয়া সেকশন পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ— পর্যালোচনা সভায় এলওসি থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
এছাড়া দ্বিতীয় এলওসির তালিকায় থাকা সৈয়দপুরে রেলওয়ে ওয়াকশর্প নির্মাণ, মোংলায় ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন, এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগর প্রকল্প এখনো অনুমোদন পর্যায়ে রয়েছে। দুই দেশের এলওসি পর্যালোচনা সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসব প্রকল্পও তালিকা থেকে বাদ যাবে।
ভারতের সঙ্গে ৪৫০ কোটি ডলারের ততৃীয় এলওসি চুক্তি সই হয় ২০১৭ সালের ৪ অক্টোবর। শুরুতে ১৬টি প্রকল্প থাকলেও,তিন প্রকল্প বাদ দেওয়ার পর বর্তমানে এই এলওসির প্রকল্পের সংখ্যা ১৩টি। এই এলওসির কোনো প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজই শেষ হয়নি। চলমান রয়েছে আট প্রকল্প। এই এলওসির অর্থছাড় হয়েছে প্রায় ৫১ কোটি ৩১ লাখ ডলার।
এর মধ্যে বাস্তবায়ন কাজ শুরুর ৬ বছরেও নির্মাণ কাজে যেতে পারার কারণে কারণে বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জের শহীদ এম. মনসুর আলী স্টেশন পর্যন্ত ডুয়েল গজ রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প এলওসি তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এছাড়া অনুমোদন পর্যায়ে থাকা পাঁচটি প্রকল্প তৃতীয় এলওসি থেকে বাদ যাচ্ছে, এরমধ্যে আছে সৈয়দপুর বিমানবন্দর নির্মাণ, পায়রা পোর্ট মাল্টিপারপাস টার্মিনাল নির্মাণসহ অন্যান্য প্রকল্প।
খবরটি পড়েছেনঃ 520









