
২০০৭ সালের ৭ মার্চ তারেক রহমানকে বন্দি করা হয়। তাঁর নামে ১৩ টি মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করা হয়। পাশাপাশি ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে ডিটেনশনও দেয়া হয়। ছয় দফায় ১৩ দিনের রিমান্ডে নিয়ে অমানবিক শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি মানসিক নির্যাতনও করা হয়। সাথে ছিলো রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার সর্বোচ্চ চাপ। দেশ ও জনগণের কথা ভেবে তিনি কোন প্রস্তাবেই রাজি হননি বলেই রিমান্ডে তাঁর উপর চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন।
সরকারের হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতনে তারেক রহমানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে ২০০৮ সালের ৩১ শে জানুয়ারি তাকে পিজি হাসপাতালের প্রিজন সেলে ভর্তি করা হয়। নির্যাতনে তার মেরুদণ্ডের ৬ ও ৭ নং হাড় ভেঙে গেছে, বেঁকে গিয়েছে কয়েকটি হাড়,। মেরুদণ্ডের ৩৩ টি হাড়ের দূরত্ব কমে গিয়েছে। চোখে ও হৃদযন্ত্রে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর মেডিকেল বোর্ড উন্নত চিকিৎসার জন্য সকল সুবিধা সম্বলিত বিশেষ করে অর্থোপেডিক, ফিজিওথেরাপি, কার্ডিওলজি ও রেডিওগ্রাফির সকল সুবিধা আছে এমন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন।
তাঁর স্বাস্থ্যের চরম অবনতি হলে তাঁর দেশবাসী ও নেতাকর্মীরা তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির জন্য রাজপথে নামে। সরকার ঘাবড়ে যায় এবং তাকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দিতে রাজি হয়। কিন্তু নির্ভীক, সাহসী তারেক রহমান নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে অনড় থাকেন। পরে উচ্চা আদালত থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জামিনে মুক্তি লাভ করার পর ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পান এবং তিনি লন্ডনে চিকিৎসার জিন্য অবস্থান করছেন।
আঠারো বছর দেশের বাহিরে আছেন নির্যাতিত হয়ে তারপরও এই দেশের তরুণদের মধ্যে সব থেকে তিনিই জনপ্রিয় নেতা। যারা তাঁর সাথে চলেছেন, যারা তাঁকে কাছ থেকে দেখেছেন, যারা তার কথা সরাসরি শুনেছেন তারা না হয় তার ভক্ত হয়েছেন, তাকে আদর্শ মেনেছেন । কিন্তু যারা তাকে একটিবারের জন্যও দেখে নাই তারা কেন তাকে আদর্শ মেনে নিয়েছেন, তার কথায় দেশের ক্লান্তিলগ্নে মৃত্যুর মুখে ঝাঁপিয়ে পড়ছে তার উত্তর খোঁজার চেষ্টা করলেই একজন আদর্শ নেতা, আদর্শ মানুষের ছবি আমাদের মন, মস্তিষ্ক আর হৃদয়ে ভেসে উঠে। তিনি তারেক রহমান, তারুণ্যের নেতা।
এই দেশের ইতিহাস থেকে তার নাম মুছে ফেলার চেষ্টাই ছিলো গত ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রধান লক্ষ্য। স্বৈরাচার হাসিনা জানতো তারেক রহমানকে এই দেশের মানুষের মন থেকে মুছে ফেলতে পারলেই তাদের স্বৈরাচারী গদি চিরস্থায়ী করা সম্ভব অন্যথায় তাদের একদিন পরাজিত হতে হবেই। এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে হাসিনা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে গত দিন গুলোতে। মিথ্যা মামলা, রিমান্ডে নিয়ে হত্যা চেষ্টা, আজগুবি অভিযোগ এনে জনগনের কাছে খারাপ বানানোর চেষ্টা সহ এমন কোন চেষ্টা নাই যা করে নাই হাসিনা আর তার দোসররা। অপরাধ প্রমাণিত না হলে তিনি অপরাধী নন এটা সবাই জানে, বুঝে। হাসিনা ১৫ বছর চেষ্টা করেও কোন মামলাই প্রমাণ করতে পারেন নাই। সাম্প্রতিক তিনি সব মামলায়ই খালাস পাচ্ছেন। দেশের আইন, জনগণ, আদালত অসবাই জানে এসব মামলা হাসিনা দিয়েছিলো প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে, নিজের ক্ষমতা স্থায়ীকরণের লক্ষ্যে, তারেক রহমানকে দেশ ও রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্য। কিন্তু হাসিনা আর তাঁর কুশীলব সবাই সেই চেষ্টাই বৃথা হয়েছে।
হাসিনা যতই তাকে জনবিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করেছে এই দেশের মানুষ তাকে ততই আপন করে নিয়েছে। সাধারণ জনগণ জানে এই দেশকে ভালোবেসে যদি কেউ কাজ করেন তবে একমাত্র তারেক রহমানই করবেন। শত নির্যাতন সহ্য করেও তিনি এই দেশের মানুষের মঙ্গলের চিন্তাই করেছেন শুধু, বিনিময় প্রত্যাশা করেননি কখনোই।
সতের বছর তার বক্তব্য প্রকাশ্যে তো দূরের কথা কোন মিডিয়ায়ও প্রচার করতে দেয়নি স্বৈরাচার হাসিনা। কিন্তু এই দেশের তরুণ সমাজ তাঁর মধ্যেই পেয়েছে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। ব্যক্তিকে দূরে রাখা যায়, মুছে ফেলার চেষ্টা করা যায় কিন্তু আদর্শ! কারো আদর্শকে তো মুছে ফেলা যায় না। আর সেই আদর্শকে খুঁজে নিজেদের মধ্যে ধারণ করেছে এই দেশের মানুষ, এই দেশে তরুণ সমাজ।
লেখক: আবু ফাহাদ
খবরটি পড়েছেনঃ 642









