
অনলাইন ডেস্ক: সংঘাতের পর থেকে পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়িতে ছড়িয়ে পড়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। কোথায়, কখন, কী অনাকাক্সিক্ষত কাণ্ড ঘটে যায়- এ নিয়ে শঙ্কিত এ জনপদের মানুষ। এ উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে রাঙামাটিতেও। সব মিলিয়ে দেশের পার্বত্যাঞ্চলে বিরাজ করছে থমথমে অবস্থা।
একদিকে ১৪৪ ধারা জারি, অন্যদিকে বিক্ষুব্ধ জুম্ম ছাত্র-জনতার ডাকা অবরোধের কারণে খাগড়াছড়িতে গতকাল অধিকাংশ দোকানপাট-শপিংমল ছিল বন্ধ। চলেনি যানবাহন। শহরের মোড়ে মোড়ে ছিল সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবির টহল। তিন দিন আগে জঙ্গলে পালিয়ে যাওয়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর লোকজনকে গতকাল ঘরে ফিরতে দেখা গেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গতকাল রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে রাজনৈতিক দলের নেতা, বিভিন্ন সম্প্রদায় ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা এএফ হাসান আরিফ। কথা বলেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমাও।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, পাহাড়ে সংঘাতের ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে, যা আগামীর জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে। খাগড়াছড়ি-রাঙামাটিতে ঘটে যাওয়া সহিংসতা তদন্তে শিগগির উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি করা হবে বলেও জানান তিনি।
গতকাল সকালে রাঙামাটিতে এবং বিকালে খাগড়াছড়িতে রাজনৈতিক দলের নেতা, বিভিন্ন সম্প্রদায় ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত বিশেষ মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, কিছু ‘দুষ্কৃতকারীর’ উসকানিতে পাহাড়ের পরিবেশ অস্থিতিশীল হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধানোর অপচেষ্টা করছে তারা। গুজবে কান দিয়ে কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেন, সে বিষয়েও সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে, পার্বত্য দুই জেলায় সংঘাত, সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনার পর সকালে রাঙামাটিতে গিয়ে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন দুই উপদেষ্টা। সেখানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির চেষ্টা করা হলে হাত ভেঙে দেওয়ার হুশিয়ারি দেন। এ ছাড়া হামলায় নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও আহতদের উন্নত চিকিৎসার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
সভায় স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা এএফ হাসান আরিফ বলেন, একটি তুচ্ছ ঘটনাকে পরিকল্পিতভাবে বড় সহিংসতায় রূপান্তর করা হয়েছে। কেউ চুরি করলে তাকে বিচার বহির্ভূতভাবে পিটিয়ে মেরে ফেলাও অনেক বড় অপরাধ। পাহাড়ে সব সম্প্রদায় যেন একসঙ্গে একই ছাতার নিচে থাকতে পারে, সে বিষয়ে পাহাড়ি-বাঙালি সবাইকে সহনশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা বলেন, উসকানি ও গুজবের ফাঁদে পা দিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের চেতনা যেন ম্লান না হয়। এ ক্ষেত্রে পাহাড়ি-বাঙালি সবাইকে ভ্রাতৃত্বসূলভ সম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশপ্রধান (আইজিপি) মইনুল ইসলাম, সেনাবাহিনীর চট্টগ্রামের জিওসি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মাইনুর রহমান, বিভাগীয় কমিশনার তোফায়েল ইসলাম প্রমুখ। স্থানীয়দের মধ্যে বিএনপি, জনসংহতি সমিতি, জাতীয় পার্টি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন, পার্বত্য নাগরিক পরিষদ, পরিবহন মালিক শ্রমিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও নিজ নিজ বক্তব্য ও পরামর্শ তুলে ধরেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৪৪ ধারা জারির পরিপ্রেক্ষিতে দৃশ্যত পরিস্থিতি শান্ত হলেও বেশিরভাগ বাসিন্দা এখনও আতঙ্কিত। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। নিতান্ত প্রয়োজনে যারা ঘরের বাইরে পা রাখছেন, তারা সন্ধ্যার আগেই ঘরে ফিরছেন। ফলে পুরো শহর জনমানবহীন হয়ে পড়ছে সন্ধ্যার পর।
খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে পাহাড়িদের ওপর হামলা, খুন ও বিহারি ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবিতে ‘বিক্ষুব্ধ জুম্ম ছাত্রজনতার’ ব্যানারে গতকাল শনিবার থেকে পার্বত্য তিন জেলায় ৭২ ঘণ্টা অবরোধের ডাক দেওয়া হয়। এ কর্মসূচিকে সমর্থন দিয়েছে সংঘাত ও বৈষম্যবিরোধী পাহাড়ি ছাত্র আন্দোলন এবং পার্বত্য এলাকার আঞ্চলিক দল ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)।
অবরোধের প্রথম দিনে গতকাল খাগড়াছড়িতে যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে এ জেলার সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। খাগড়াছড়ির দীঘিনালা, পানছড়ি ও মাটিরাঙাসহ আন্তঃউপজেলাগুলোতেও এদিন সড়ক যোগাযোগ ছিল বন্ধ। অবরোধের সমর্থনে গতকাল সকালে খাগড়াছড়ি সাজেক সড়ক, পানছড়ি ও রামগড় সড়কে টায়ার জ্বালায় অবরোধকারীরা। তবে কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি।
চট্টগ্রাম থেকে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি যাওয়ার একমাত্র বাস স্টেশনটি নগরীর অক্সিজেন নামক স্থানে। একই রুটে যাওয়া যায় হাটহাজারী, রাউজান ও ফটিকছড়ি উপজেলায়। সরেজমিন দেখা গেছে, দূরপাল্লার বাস হাটহাজারী, রাউজান ও ফটিকছড়ি উপজেলা পর্যন্ত চলাচল করছে। এরপর থেকে কোনো বাসের দেখা মেলেনি। ফটিকছড়ির সাথে লাগোয়া খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলা। সেখান থেকে পুরো সড়কে সুনসান নীরবতা। মাঝেমধ্যে দুয়েকটি মোটরসাইকেল দেখা যায়। মাটিরাঙ্গায়ও একই পরিস্থিতি। কিছু দোকান খোলা থাকলেও অধিকাংশই ক্রেতাশূন্য।
মানিকছড়ির দোকানি মো. হাছান বলেন, পাহাড়ি-বাঙালি সংঘাতের পর থেকে মানুষ তেমন রাস্তায় বের হচ্ছেন না। যদিও এই এলাকাটি শান্ত, কিন্তু মানুষ আতঙ্কিত।
খাগড়াছড়ি শহরের সবখানে পিনপতন নীরবতা। মাঝেমধ্যে দুয়েকটি টমটম দেখা গেলেও যাত্রীশূন্য। শহরের বিভিন্ন রাস্তায় পুলিশ-বিজিবি, সেনাবাহিনীর সদস্য। শহরের শাপলা চত্বর, পৌরসভা এলাকা, হ্যাপির মোড়, নিউ মার্কেট, স্টেডিয়াম এলাকাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দেখা গেছে।
অথচ গতকাল ছিল পাহাড়ে সাপ্তাহিক বাজারের দিন। এই দিনে দূর-দূরান্ত থেকে ঘরোয়া লোকজন নিত্যদিনের পণ্য কেনাবেচা করতে জেলা শহর ও উপজেলা শহরগুলোয় আসেন। গতকাল তেমন কোনো পরিস্থিতি চোখে পড়েনি।
সংঘাতের সূত্রপাত খাগড়াছড়ির দীঘিনালার লারমা স্কয়ারে গিয়ে দেখা গেছে, পুড়ে যাওয়া ক্ষতিগ্রস্ত দোকানের মালিক পাহাড়ি ও বাঙালি ব্যবসায়ীরা জটলা বেঁধে আলোচনা করছেন। অনেকে পুড়ে যাওয়া দোকানে মালামাল নেড়েচেড়ে দেখছেন, যদি আগুন পুড়ে না যাওয়া কিছু পাওয়া যায়।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন লারমা স্কয়ার ক্রেতা-বিক্রেতায় ঠাসা থাকলেও গত বৃহস্পতিবারের ঘটনার পর থেকে সেখানে ভিন্ন পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গত শুক্রবার থেকে লারমা স্কয়ার এলাকায় মানুষের খুব একটা দেখা মেলেনি। গতকাল শনিবার সেখানে বড় বাজার বসার কথা ছিল। তবে পুড়ে যাওয়া দোকানি ছাড়া তেমন কেউই সেখানে নেই।
লারমা স্কয়ারের লাগোয়া বোয়ালখালী বাজারে দুয়েকটা দোকান খোলা। বাকি সব বন্ধ। মানুষের চোখে-মুখে আতঙ্ক। পরিস্থিতি থমথমে। খাগড়াছড়ি শহর থেকে দীঘিনালা যাওয়ার পথে আট মাইল, নয় মাইল নামক স্থানের দোকানসহ সব দোকানপাটই বন্ধ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও গণমাধ্যম কর্মীদের ভিড় শুধু লারমা স্কয়ারজুড়ে।
বোয়ালখালী বাজারের বিসমিল্লাহ ভাতঘরের দোকানি সিরাজুর ইসলাম বলেন, দীঘিনালার সবচেয়ে বড় বাজার হচ্ছে বোয়ালখালী বাজার। প্রতিদিন ১০-১২ হাজার মানুষ এখানে আসা-যাওয়া করে। আজকে বাজার ছিল এখানে। কিন্তু মানুষজন নেই। বেচা-বিক্রিও নেই। অনেকে দোকান না খুললে আমি খুলেছি। সন্ধ্যার আগে বন্ধ করে দেব।
স্থানীয় বাসিন্দা রুমেল চাকমা বলেন, আমরা শান্তি চাই। হানাহানি রক্তপাত পাহাড় দেখতে চাই না। পাহাড়ি-বাঙালি মিলেমিশে আমরা ব্যবসা করছি, শান্তিতে থাকছি। এগুলো সন্ত্রাসীদের সহ্য হচ্ছে না। তাই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগাতে চাচ্ছে।
ফাঁকা পর্যটন স্পট
দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় পর্যটকশূন্য হয়ে আছে সবকটি পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র। ফাঁকা হোটেল ও মোটেল। বন্ধের দিন শুক্রবার ও শনিবার খাগড়াছড়ির প্রধান পর্যটন স্পট আলুটিলা ও রিছাং গিরিতে শত শত পর্যটকের ভিড় দেখা যায়। কিন্তু গতকাল আলুটিলা ছিল ফাঁকা। একই দৃশ্য দেখা গেছে রিছাং ঝর্ণা ও জেলা পরিষদ পার্কেও।
আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রের দোকানি সঞ্চিতা ত্রিপুরা জানান, বৃহস্পতিবার থেকে এখানে কেউ নেই। পাহাড়ে শান্তি না ফিরলে পর্যটক আসবেন না।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার সকালে চুরির অভিযোগে ‘গণপিটুনিতে’ মামুন নামে এক যুবক হত্যার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকালে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন খাগড়াছড়ির দীঘিনালা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ বিক্ষোভ মিছিলের এক পর্যায়ে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। পরে লারমা স্কয়ারের দোকানপাটে আগুন দেয় একটি পক্ষ। তাতে ৬০ থেকে ৭০টি দোকান পুড়ে গেছে বলে ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ। সংঘর্ষে আহতদের খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়। দীঘিনালার ওই ঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার রাতে জেলা সদরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে পুরো জেলায় আতঙ্ক তৈরি হয়। নাশকতা রোধে খাগড়াছড়ি পৌর শহর ও জেলা সদরে শুক্রবার দুপুর ২টা থেকে ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন। খাগড়াছড়ির সংঘাতের জেরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে আরেক পার্বত্য শহর রাঙামাটিতেও। সেখানে সংঘর্ষে একজন মারা যান। আহত হন অন্তত ৫০ জন। এরপর শুক্রবার দুপুর দেড়টা থেকে রাঙামাটি পৌর এলাকায়ও ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন।
গুজবে ছড়ায় উত্তেজনা, বেড়ে যায় আতঙ্ক
ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে নানারকম গুজব ছড়াতে থাকে, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। কতিপয় ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও পেজ থেকে উসকানিমূলক ছবি ও পোস্ট দিয়ে এলাকাবাসীকে উত্তেজিত করা হতে থাকে। রাত যত বাড়তে থাকে, ততই বাড়তে থাকে গুজব। ফলে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক ও উত্তেজনা।
খাগড়াছড়ির পরিস্থিতির বিষয়ে দীঘিনালা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আল আমিন বলেন, যার যেভাবে ইচ্ছে সেভাবে গুজব ছড়িয়েছে। এসব গুজবে মানুষ বেশি আতঙ্কিত হয়েছে। শুধু সত্যি ঘটনা তুলে ধরা হলে পরিস্থিতি এতটা খারাপ হতো না।
জেলার মিলনপুর এলাকার বাসিন্দা অর্ণব চাকমা বলেন, আমাদের এলাকার পরিবেশ ভালো আছে। কিন্তু নানাভাবে ছড়ানো হয় যে, রাতে হামলা হতে পারে। আমরা সারারাত জেগে ছিলাম। সবাই আতঙ্কে রাত কাটিয়েছি। একজনকে পিটিয়ে মেরেছে। তার বিচার চাইতে পারে। কিন্তু সেটি তো সাম্প্রদায়িক ইস্যু হতে পারে না।
পাহাড়কে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র
চলমান পরিস্থিতিতে ইস্যু তৈরি করে পাহাড়কে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আসাদ উল্লাহ বলেন, ‘পাহাড় নিয়ে বহু বছর ধরে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলে আসছে। সশস্ত্র সংগঠনগুলো সাম্প্রদায়িক সংকট তৈরি করে পাহাড়কে অস্থির রাখতে চায়। এসব ঘটনা ঘটিয়ে তারা বাংলাদেশ থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামকে আলাদা করে জুমল্যান্ড করার স্বপ্ন দেখছে। এখানে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলো অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করছে। এখনই এসব বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. সহিদুজ্জামান জানান, আমাদের সবাইকে সচেতন থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। কেউ যেন গুজবে কান না দেয়। বর্তমানে জেলার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। শান্তি-সম্প্রীতি রক্ষায় প্রত্যেককে সংযতভাবে চলার আহ্বান জানাই।
খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার বলেন, ‘অবরোধে জনজীবন স্বাভাবিক রয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। জেলা সদর ও উপজেলাগুলো পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি টহল রয়েছে।
রাঙামাটিতে ব্রডব্যান্ড সংযোগ চালু হয়েছে
এদিকে রাঙামাটিতে সহিংসতার আগুনে পুড়ে পাওয়া বেসরকারি ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ চালু হয়েছে। গতকাল দুপুরের পর থেকেই পুড়ে যাওয়া ক্যাবল মেরামতের কাজ শুরু করেন শহরের ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা। প্রসঙ্গত, শুক্রবার রাঙামাটিতে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় অর্ধশতাধিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। এ সময় আগুনে পুড়ে যায় কয়েকটি দোকানপাট ও ইন্টারনেটের ক্যাবল। ফলে গত শুক্রবার থেকে কিছু জায়গায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট অচল হয়ে পড়ে। তবে এ সময় মোবাইল নেটওয়ার্ক সচল ছিল। শহরে প্রায় ২০টি কোম্পানি ১২ সহস্রাধিক গ্রাহককে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা দিয়ে আসছে।
জেলা প্রশাসক মো. মোশারফ হোসেন জানিয়েছেন, ১৪৪ ধারা জারির পর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে এলে ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করা হবে। এদিকে রাঙামাটির সহিংস ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। কাউকে আটক করেনি পুলিশ।
খবরটি পড়েছেনঃ 342










