বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬
১১ই আষাঢ়, ১৪৩৩

‘মজলুম’ এক বিচারকের জন্য নজিরবিহীন প্রস্তাব

Law ministry

নিজস্ব প্রতিবেদক: আপিলের রায় পেলেও চাকরিতে যোগদান করতে পারেননি একজন বিচারক। ক্ষমতার পালা বদলের পর যুগ্ম জেলা পদ মর্যাদার এই বিচারককে দুই ধাপ ডিঙিয়ে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ পদে পদোন্নতি দিতে আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে।

বিচারকের নাম আযাদ সুবহানী। ২০০৮ সালে সাময়িক বরখাস্ত ও ২০১০ সালে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল তাকে। তবে মামলার পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল ২০১৪ সালে ওই বিচারককে চাকরি ফেরত দিতে নির্দেশ দেন। ১৬ বছর হাল না ছেড়ে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর যোগদান করতে গিয়েছিলেন তিনি। তৎকালীন আইন সচিব আপিল করবেন না বলে আশ্বস্ত করলেও রায়ের সাড়ে ৫ মাস পর আপিল করেন। ২০২১ সালে আপিলের রায় পেলেও তাকে চাকরিতে যোগদান করতে দেওয়া হয়নি।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরদিন সংসদ ভেঙে দেন রাষ্ট্রপতি। ওই পরিস্থিতির মধ্যেই ৬ আগস্ট হঠাৎ করে আযাদ সুবহানীকে চাকরিতে যোগদান করতে আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর একদিন পরই আবার প্রস্তাব পাঠানো হয় অতিরিক্ত জেলা জজ হিসেবে পদোন্নতি দিতে।

মন্ত্রণালয়ের ওই প্রস্তাব বিবেচনার জন্য পাঠানো হয় সুপ্রিম কোর্টের ফুলকোর্ট সভায়। তবে ফুলকোর্ট সভায় বিবেচনাধীন থাকা অবস্থাতেই ওই প্রস্তাব প্রত্যাহার করে গত ১৮ সেপ্টেম্বর নতুন করে প্রস্তাব পাঠানো হয়। এবার সরাসরি সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদোন্নতি দিতে প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিচারিক অভিজ্ঞতা ছাড়া এই রকম পদোন্নতির নজির না থাকলেও তাকে কিভাবে পদোন্নতি দেয়া হচ্ছে তা জানতে চাইলে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব গোলাম রব্বানী বলেন, ‘এ রকম কোনো নজির আছে বলে আমার জানা নেই। বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের ফুলকোর্টে বিবেচনাধীন।’

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি, ছুটি মঞ্জুর, নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলাবিধান, চাকরির অন্যান্য শর্তাবলি) বিধিমালা, ২০০৭ অনুযায়ী যুগ্ম জেলা জজ থেকে অতিরিক্ত জেলা জজ পদে পদোন্নতির জন্য যুগ্ম জেলা জজ পদে দুই বছরের বিচারিক কাজের অভিজ্ঞতাসহ ১০ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। অতিরিক্ত জেলা জজ থেকে জেলা জজ পদে পদোন্নতির জন্য অতিরিক্ত জেলা জজ পদে দুই বছরের বিচারিক অভিজ্ঞতাসহ মোট ১৫ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। আর সিনিয়র জেলা জজ হতে জেলা ও দায়রা জজ পদে ৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আযাদ সুবহানী বলেন, ‘আমি মজলুম ছিলাম। ১৬ বছর হাল না ছেড়ে লড়ে গিয়েছি। প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর যোগদান করতে গিয়েছিলাম। তবে তৎকালীন আইন সচিব বললেন আপিলের মেয়াদ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে, তাঁরা আপিল করবেন না। তবে সাড়ে ৫ মাস পর তাঁরা (মন্ত্রণালয়) আপিল করে দিলেন। ২০২১ সালের আপিলের রায়ও পেলাম। কিন্তু আমাকে যোগদান করতে দেওয়া হয়নি।’

সুপ্রিম কোর্টের একটি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত থাকা আযাদ সুবহানীকে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ করতে প্রস্তাব এসেছে। বিষয়টি জিএ কমিটি সুপ্রিম কোর্টের ফুলকোর্ট সভায় পাঠিয়েছেন। আগামী ২১ অক্টোবর এ বিষয়ে ফুলকোর্ট সভায় সিদ্ধান্ত হবে।

মন্তব্য করুন